ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঢাকা: দোহার উপজেলার দক্ষিন শিমুলিয়া তালপট্টি এলাকায় সপ্তাহব্যাপী ডাকাতির ঘটনায় ৪জন দস্যুকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ।আটককৃতরা হলেন- দক্ষিন শিমুলিয়া গ্রামের উকিল উদ্দিন মৌড়লের ছেলে সাগর আহম্মেদ(২৩), একই গ্রামের সামাদ খানের ছেলে সোহেল খান(২৩), শেখ তাজল(২৫) ও মো.আবুল খায়ের(৩৮)।
দোহার সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শফিকুল আলম আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ৪ দস্যুকে আটক করা হয়েছে। লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার হয় নাই এখন পর্যন্ত।
দক্ষিন শিমুলিয়া তালপট্টি গ্রামে হামলার শিকার মোস্তফা মিয়া(৫৫) জানান, সোমবার রাত দেড়টার দিকে ৫/৬ জনের একটি দল ঘরের দরজা ভেঙ্গে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ ৫৫ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন লুটে নেয়। এ সময়ে ডাকাতদল আমার স্ত্রী জাবেদা বেগম(৪২) এর কানের স্বর্নের দুল ও নাকফুল খুলতে গেলে তার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিলে তিনি চিৎকার দেন।চিৎকার-চেচাঁমেচি শুনে সাগর ও সোহেল আমিসহ স্ত্রীকে কোপাতে থাকে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাতায়,ঘাড়ে,গালে,দুই হাতের আঙ্গুলসহ,বাম হাতের উপরে ও বুকে পিঠে গুরুত্বর জখম হই। এ সময়ে স্থানীয়রা আর্তচিৎকারে এগিয়ে আসলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশের টহল টিম আসলে পুরো ঘটনা খুলে বলি। পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান।
অপরদিকে সপ্তাহব্যাপী দস্যুতার ঘটনা জানতে কথা হয় উত্তর শিমুলিয়া দুই ব্রীজের দক্ষিনে সেলিম মাতব্বরের(৪২) সাথে। তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে একই কায়দায় তার বসতঘরের দরজা ভেঙ্গে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু বিক্রির টাকা কোথায় রেখেছি জানতে চায়। একপর্যায়ে আমাকে বেদম পিটিয়ে নগদ ৮৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও আমার স্ত্রী হাসিনা বেগমের(৩৫) স্বর্নের চেইন, কানের দুল ও নাকফুল লুটে নেয়। পরদিন এ ঘটনা সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি।
কথা হয় একই গ্রামের জামাল উদ্দিনের সাথে, তিনি বলেন গত মঙ্গলবার রাতে এই ডাকাতদল আমার বাড়িতেও হামলা চালায়। এ সময়ে দেশীয় অস্ত্রেও মুখে ডাকাতদল বাছুর বিক্রির ৩৫ হাজার টাকা ও স্ত্রীর কানের দুল লুটে নেয়।
এ সময়ে একই গ্রামের দানেচ ফকিরের ছেলে অটো চালক আজাহার মিয়া (৪৮) অভিযোগ করে জানান, গত শনিবার রাতে আমার বাড়ির ঘরের সাথে আমার একটি অটো চার্জিং ষ্টেশন রয়েছে।সেখানে আমার ছোট ভাই শাহ আলমসহ ইদ্রীস নামে আরও একজনের মোট তিনটি অটো গাড়ি চার্জ দেওয়া হয়। সেই রাতে ঘরে শিং খুদে এরা আমাদের তিনটি অটো গাড়ির ১৩টি ব্যাটারী খুলে নিয়ে যায়।বর্তমানে আমরা ব্যাটারী খুলে নেওয়ায় আর অটো গাড়ি বের করতে পারছি না।ফলে একপ্রকার স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিন পরিবার না খেয়ে রয়েছি।
এসকল ঘটনায় উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের তালপট্টি এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তারা কোন প্রতিকার করতে পারে নি বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা বিএনপি’র সাংগনিক সম্পাদক ও দক্ষিন শিমুলিয়া গ্রামের প্রভাবশালী বাসিন্দা আছিয়ার উদ্দিন বাচ্চু খান জানান, এই অঞ্চলে সম্প্রতি সপ্তাহখানেক ধরে মাদকদ্রব্য বেচা-কেনা, চুরি,দস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের নিয়ে আমরা একটি পাহাড়ার ব্যবস্থা করেছি এবং বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও থানাকে জানিয়েছি। পাশাপাশি পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিদের নামে আমরাও অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে দোহার সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপÍ কর্মকর্তা পরিদর্শক শফিকুল আলম জানান, সম্প্রতি এই এলাকায় অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী জানান, মুকসুদপুর-নারিশা ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে দোহার সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপÍ কর্মকর্তা পরিদর্শক শফিকুল আলম রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা অবনতি হলে তিনিই দায়ভার নিবেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:১৪:০৩ ৩০০ বার পঠিত | ● ডাকাত . আসামী আটক ● ঢাকা জেলা ● দোহার