ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কাউখালীর নদ-নদীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

কাউখালীর নদ-নদীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল


রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী(পিরোজপুর)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫


কাউখালীতে নদ-নদীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

পিরোজপুর: কাউখালীতে কঁচা, সন্ধ্যা, কালিগঙ্গা ও গাবখান নদীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। জেলেরা নদীতে দিন রাত জাল ফেলে আপ্রান চেষ্টা করলেও তাদের জালে মাছ ধরা পড়ছে না। ফলে জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
কাউখালীতে প্রায় ৮ হাজারেরও বেশী ইলিশ জেলে পরিবার রয়েছে, এসব জেলে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল গড়ে নদীতে নেমেছে। কিন্তু সারাদিন জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। এখন অনেক জেলে নদীতে যাচ্ছেনা। নদীর তীরে নৌকায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বেকার হয়ে পরেছেন উপজেলার হাজার হাজার জেলে। বেশীরভাগ জেলে আবার ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তির ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন না। তাদের পরিবারের সদস্যরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে জেলেপাড়ায় গিয়ে এক করুন চিত্র দেখা যায়, জেলেদের স্ত্রীরা অভাবের তাড়নায় দিশেহারা হয়ে পরেছেন। তাারা জানান, বিভিন্ন এনজিও ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, বিআরডিবি থেকে আনা ঋণের টাকা প্রতি সপ্তাহে পরিশোধ করতে হয়। তারা সংসার চালাতে পারছেন না কিস্তি দেবে কিভাবে- এই দুঃশ্চিন্তায় তাদের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। কাউখালীর ১ হাজার ৬৫০ টি জেলে পরিবার সরকারী সাহায্য পেলেও তা জেলেদের সংখ্যার তুলনায় যৎসামান্য।

কাউখালীর এলাকার ইলিশ জেলে ফোরকান মাঝি, আশুতোষ, লিটন, সোগাগ, জানান, তাদের একমাত্র পেশা ইলিশ ধরে বিক্রি করা এবং তা দিয়ে সংসার চালানো। ইলিশ মাছ নদীতে না পেয়ে তারা হতাশ। বর্তমানে সরকার সহজ শর্তে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে লোন দিলে আমরা এই করুন অবস্থা থেকে রেহাই পাব। বাজারে দুই একটি ইলিশ উঠলে ৫০০/৭০০ গ্রাম ওজনের মাছ প্রতি কেজি ১৫০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৮০০/৩০০০ টাকা।

বাজারের ইলিশ মাছ কিনতে আসা ক্রেতা মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, ইলিশ মাছ বর্তমানে সোনার হরিন হয়ে গেছে। বর্তমানে ইলিশের মৌসুম কিন্তু ইলিশ বাজারে মিলছেনা। সাধারন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে ইলিশের দাম।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, উপজেলার জেলেদেরকে পূর্ণবাসনের জন্য চার মাসের জন্য প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিকল্প কমূসূচির মধ্যে রয়েছে জলেদের মধ্যে বকনা বাছুর ও ছাগলসহ বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রহী প্রদান করা হচ্ছে। উল্লেখ্য কাউখালীর কচা ও সন্ধ্যা নদীর সু-স্বাদু ইলিশ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করা হতো। বিশেষজ্ঞদের ধারনা জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সমস্ত নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ মিলছেনা।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৯:০৬   ১৬৯ বার পঠিত  |      







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ