ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » খুলনা » ভারী বর্ষণে পাইকগাছায় ডুবে গেছে গ্রাম, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

ভারী বর্ষণে পাইকগাছায় ডুবে গেছে গ্রাম, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ


আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা (খুলনা)
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫


ভারী বর্ষণে পাইকগাছায় ডুবে গেছে গ্রাম, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

খুলনা: ভারী বর্ষণে খুলনার উপকূলীয় পাইকগাছার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্ষার পানিতে ডুবে গেছে হাজার হাজার মৎস্য ঘের। বেড়েছে জনদূর্ভোগ। উপজেলা কৃষি অফিস ও আদালত চত্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে একটানা দুই বার ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
এ বছর আষাড় মাসের প্রথম থেকে একটানা গুড়ি গুড়ি, হালকা ও ভারি বৃষ্টি লেগে আছে। এতে আমন ধানের বীজ তলা, সবজি ক্ষেত, মৎস্য লীজ ঘের, নার্সারী, পুকুর, বাগান, রাস্তা ও বসতবাড়ী তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পাইকগাছার গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়ুলী উঁচু এলাকা হলেও বাকি ৬টি ইউনিয়ন নিচু এলাকায় অবস্থিত। সামান্য বৃষ্টি হলে এ সকল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তবে গত দিনের ভারি বর্ষণে উঁচু এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর বাজারের সোনা পট্টি, মাছ বাজারসহ বিভিন্ন রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীণ রাস্তাগুলি পানিতে তলিয়ে থাকে। বাড়ির উঠান পানিতে তলিয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ বিড়াম্বনায় পড়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষরা কাজে যেতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়ে আর্থিক অনাটনের মধ্যে পড়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়ন গদাইপুরের কয়েক’শ নার্সারি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেত ও আমন ধান ঝড়ো হাওয়ায় পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের একটানা বৃষ্টিতে মানুষের জনদূর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
কৃষক সামাদ গাজী জানান, আমার কুল, পেয়ারা ও লেবুর প্রায় তিন হাজার চারা পানির নিচে। উঠানেও হাঁটু সমান পানি জমেছে।
বর্ষণের প্রভাবে দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষকসহ শ্রমজীবী মানুষ কাজ না পেয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু জায়গায় ড্রেন বন্ধ করে রাখায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে। গোলাবাটি, সলুয়া, নতুন বাজার ও জিরো পয়েন্ট এলাকার প্রধান সড়কগুলো ভেঙে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হোসেন জানান, ভারী বর্ষণে আমন ধানের বীজতলা ও সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে গেলে চারার তেমন ক্ষতি হবে না।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক জানান, প্রায় এক হাজার পুকুর ও তিন হাজারের বেশি মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। যদি বৃষ্টি থেমে যায়, তাহলে পানি দ্রুত নেমে যাবে; নতুবা কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহেরা নাজনীন জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নদীর স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং ড্রেন পরিষ্কারে একটি টিম কাজ করছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:০৯:৩৩   ১৬৬ বার পঠিত  |      







খুলনা থেকে আরও...


ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল
ভুয়া তালাকনামায় বিয়ে,কাজীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
মহম্মদপুরে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা,অভিযুক্ত আটক
বিএনপির নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের বোমা ও গুলি নিক্ষেপ,আহত ১
ভেড়ামারা দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা



আর্কাইভ