ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: পরকীয়ার সন্দেহে বাউফলে সালমা আক্তার নামের এক মাদ্রাসার বাংলা বিষয়ের প্রভাষককে কুপিয়ে হত্যা করার এক দিন পরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে তাঁর স্বামী সরোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্য রাতে চার বছরের এক মাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে বাউফল থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে খুনের দায় স্বীকার করেন তিনি। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে উপজেলার মদনপুরা ইউপির চন্দ্রপাড়ার গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সালমা আক্তার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের মৃত রুস্তুম আলীর মেয়ে। বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর নেছারিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার বাংলা বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন তিনি।
জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা গ্রামের সরোয়ারের সাথে একই উপজেলার ধাওয়া গ্রামের সালমা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। চার বছর আগে এনটিঅরসি’র মাধ্যমে বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বাংলা বিষয়ে প্রভাষক পদে চাকুরিতে যোগ দেন সালমা আক্তার। চাকুরিরর সুবাদে সালমা ও তাঁর স্বামী সরোয়ার উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়ার গ্রামে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।
এ সময় নিজের অজান্তে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন স্ত্রী সালমা আক্তার। এতে স্বামী সরোয়ার বাধা দিলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। ওই কলহের জের ধরে গত বুধবার বিকেলে উভয়ের মধ্যে ফের ঝগড়ার সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে সরোয়ার ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে সালমাকে হত্যা করে। পরে লাশটি বদ্ধ ঘরে রেখে শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান । এরপর বিবেকের তাড়নায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একমাত্র সন্তান সহ থানায় উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, একমাত্র শিশু সন্তানকে নিয়ে সরোয়ার থানায় এসে তাঁর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সালমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটিকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:১০:১৩ ১৬০ বার পঠিত | ● আত্মসমর্পণ ● বাউফল ● স্ত্রী ● স্বামী ● হত্যা