ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: বাউফলে বিএনপির দুপক্ষের আধিপত্যের জের ধরে একটি দোকান ঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগে অভি (১৫) ও শান্ত (১৫) নামে দুই শিশুকে শাররীজ নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বিগ্নতার সৃষ্টি হয়েছে।
কালাইয়ার বগী এলাকার কিশোর অভি ও শান্ত নামের এ দুই নির্যাতনের শিকার হয়।গত শনিবার (০৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন দুষ্কৃতিকারি মিলে অভি ও শান্তকে দোকানের খুঁটির সঙ্গে দুই দুই হাত বেধেঁ লাঠিপেটা করছে আর ‘বলছে কে আগুন দিতে পাঠাইছে, রেজবি? কত টাকা দিছে? পাঁচ হাজার টাহা দিছে? আগুন লাগলে এইহানে ঘরগুলা থাকতো? কেডা পাঠাইছে আবার ক ? কয় টাহা লইছোছ? পাঁচ হাজার? আবার ক? কেরাসিন লইয়া আইছোস। লাল জামাডা ক্যার? কেরাসিনের বোতল কই হালাইছোস? পাচ হাজার টাহার জন্য একটা ঘর পুইর্যা হালাস এইডা কোন মানবতার কাজ?’ -এসব কথা জিজ্ঞাসা করছে।
আর নির্যাতন করছে। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইট কই জিজ্ঞাসা করে এক কিশোরের পকেট থেকে লাইটার বের নেয়া হচ্ছে। এর পর সে পানি খাবে কি না জানতে চায় তারা। আর এ সময় লাঠি পেটার আর্তনাদ দুই কিশোর অভি ও শান্ত শোনা যাচ্ছে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে স্বীকারোক্তিও দিচ্ছে তারা বাধ্য হয়। আগুন লাগানোর জন্য পাঁচ হাজার টাকা দিবে বলে রিজভী নামে একজনের নামও প্রকাশ করছে ওই দুই কিশোর।
স্থানীয় কয়েকজন জানায়, উপজেলার বগীর খাল তুলাতলা এলাকায় শনিবার (০৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাহবুব (৪৫) নামে এক মুদি ও চা বিক্রেতার দোকানের বৈদ্যুতিক মিটার ব্লাস্ট হয়ে আগুন লেগে যায়।
এ সময় তার ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। আগুন নিয়ন্ত্রনের লোকজন চলে যায়। এর কিছুক্ষয়ন পরে ওৎ পেতে থাকা দোকানদার মাহবুব ও তার লোকজন তুলাতলা খালের বিপরীত দিক থেকে আসা শৌলা কর্পূরকাঠী এলাকার হারুন গাজীর ছেলে অভি (১৫) ও রিয়াজ মুন্সির ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র শান্তকে (১৫) ধরে নিয়ে দোকানের খুঁটির সঙ্গে রশিতে বেঁধে রাখে এবং একপর্যায়ে তাদেরকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।
লাঠিপেটায় আহত করে তাদের কাছ থেকে আগুন লাগানোর স্বীকারোক্তি ভিডিও ধারণ করা হয়। একপর্যায়ে খবর দিলে বাউফল থানার পুলিশের এস,আই মো. ইব্রাহিম মোল্লা ঘটনাস্থালে গিয়ে ওই দুই কিশোর অভি ও শান্তকে থানায় নিয়ে আসে।
বিএনপির একাধিক সুত্র জানায়, উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম এমদাদের ছেলে একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন আলম রিজভী ওই মুদি ও চায়ের দোকানি মাহবুবের শ্যালক মনির হাওলাদারদের সঙ্গে স্থানীয় আদিপত্য নিয়ে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত বিরোধ চলে আসছিল। মনির হাওলাদার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেনের অনুসারি এবং সাইফুদ্দিন আলম রিজভী বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহি কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদ তালুকদারের সমর্থক ও অনুসারি। এর আগে একাধিকবার রিজভী ও মনির হাওলাদার গ্রুপের লোকজনের মধ্যে চরের চাষিদের তরমুজ, তেতুলিয়ার নদীর জেলেদের নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তির মহড়ায় এলাকাবাসি অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
কয়েকমাস আগে আগে স্থানীয় বগী হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপ বিরোধে জড়ায়। মনির হাওলাদার গ্রুপের এক চাঁদবাজি মামলায় এরেস্ট হয়ে রিজভী ও তার বাবা এমদাদ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। পরে তারা জামিনে বের হয়ে দু
পক্ষই গ্রুপের কারণেই কিশোর অভি আর শান্ত নির্যাতের শিকার হয়েছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।
এ ব্যাপারে দোকানদার মাহবুব বলেন, দোকানের পেছনের দিকটায় আমি থাকি। বিদ্যুতের মিটার ব্লাস্টের শব্দ শুনে উঠে দেখি আগুন ধরে গেছে। মিটারে কাপড় পেঁচিয়ে কেরসিন দিয়ে আগুন লাগানো হয়। কেরসিনের বোতল পরে থাকতে দেখি। এর কিছুক্ষন পরে শান্ত ও অভি সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে লোকজন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে আমাদেরকে মারবেন না বলে জানায় এবং তারা আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করে। পুলিশের কাছেও তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুদ্দিন আলম রিজভী ৫ হাজার টাকা দিবে তাই আগুন লাগিয়েছি বলে জানিয়েছে শান্ত ও অভি। এরপর খবর দিলে বাউফল থানার পুলিশ এসে দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যাবসায়ি বলেন, আনুমানিক রাত ১টার দিকে দোকানদার মাহবুবের চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙে। ছুটে গিয়ে মিটারের কাছে আগুন দেখতে পাই। দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রনে আসে। এরপর চলে আসি। তবে উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরে দুই কিশোরকে নির্যাতনের কথা জেনেছি। ওই দুই কিশোর মাদকসেবি হতে পারে।
এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুদ্দিন রিজভী বলেন, ‘অভি ও শান্ত আমাদের এলাকার। তাদের মা বাবা এসে আমাকে জানালে থানায় আসি। আমি এ ঘটনায় জড়িত নই। সম্পূর্ণ ঘটনা সাজানো নাটক। পূর্ব বিরোধ থাকায় আমার ব্যাপারে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অভি ও শান্ত জানায়,তাদের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ফিরছিলো। এসময় তাদেরকে ধরে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি কিছুই জানি না অথচ আমাকে ফাঁসানোর পায়তারা করছে।
বাউফল থানার এস,আই মো. ইব্রাহিম মোল্ল্যাহ বলেন, শনিবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় ‘আগুনের ঘটনা এবং অভি ও শান্ত নির্দোষ কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এখনো তদন্ত চলছে। আমাদের পুলিশের আরেকটি টিম ঘটনাস্থলে গেছেন। দুই পক্ষই থানায় আসতেছেন। ভোর চারটার দিকে আমরা ওদেরকে নিয়ে আসি। তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আমি আপনাকে আপডেট জানাবো।’
এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, মোবাইলফোনেআগুন লাগানোর সত্যতা পাওয়া যায়নি। কিশোরদেরকে তাদের আত্মীয়ের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে’ । ’
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২১:০৯:৩৬ ২৪৯ বার পঠিত | ● অমানবিক ● কিশোর ● নির্যাতন ● বাউফল