ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: চরফ্যাসনে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিনভর আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক হাজারীর বাড়িতে দুই দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের গৃহকর্তা মানিক হাজারী ওপর হামলা চালিয়ে পরিবারের দুই নারী সদস্যকেও মারধর করে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন।পরে প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন বলে জানাগেছে। হামলাকারীদের অব্যহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
হামলার শিকার গৃহকর্তা মানিক হাজারী জানান, এক সময় তিনি প্রবাসী ছিলেন। প্রবাস থেকে দেশে ফিরে ছোট দুই ভাইকে মালদ্বীপ পাঠিয়ে দেন। তিনি তার বাবা-মা ও প্রবাসী দুই ভাইয়ের স্ত্রী সন্তানসহ একই বাড়িতে বসবাস করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রতিবেশী খলিল মাঝি ও তার ছেলে ভূয়া কাগজের মাধ্যমে তাদের বসত বাড়ি সংলগ্ন বাগান ভিটের মধ্যে তাদের ভোগদখলীয় ৭ শতাংশ জমি খলিল মাঝির মালিকানাদাবী করেন। এবং তাদেরকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন।
এনিয়ে প্রতিবেশী খলিল মাঝিদের সাথে তাদের বিরোধ শুরু হয়। প্রতিপক্ষ তাদের জমিতে নিজেদের মালিকানাদাবী করা নিয়ে একাধিক শালিশ সমোঝতা হলেও কোন সুরাহ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি চলতি বছরে খলিল মাঝিসহ অপরাপরদের বিরুদ্ধে চরফ্যাসন সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। ওই আমালা আদালতে চলমান রয়েছে। মামলা দায়েরের পর চরম ক্ষিপ্ত রূপ ধারন করে খলিল মাঝি ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম। এবং তাদের পরিবারকে ঘায়েল করতে তাদের সাথে আতাঁত করেন তার দুই চাচাতো ভাই আওলাদ হাজারী ও ফিরোজ হাজারীসহ তাদের দলবলরা।
বুধবার সকালে ওই চক্র তাদের বাড়িতে গিয়ে জমি ছাড়বো কিনা জানতে চেয়ে হুংকার দেন। এনিয়ে তাদের সাথে আমাদের তর্ক হয়। ওই তর্কের জের ধরে প্রতিবেশী খলিল মাঝির নেতৃত্বে তার ছেলে সাইফুল মাঝি ও আমার দুই চাচাতো ভাই আওলাদ হাজারী ও ফিরোজ হাজারী মোবাইল ফোনে তাদের সাঙ্গপাঙ্গকে ডেকে এনে তার ওপর আর্তকিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেন। তার ডাক চিৎকারে তার প্রবাসী ছোট দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও তার স্ত্রী তাকে হামলার কবল থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এবং ওই হামলাকারী চক্র তার প্রবাসী দুই ভাইয়ের স্ত্রীদেরকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন।
পরে তাদের ডাক চিৎকারে স্বজনরা ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগে তাদের বসত বাড়ির বাগান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার নারীকেল ও সুপারী লুট করে নিয়ে যান ওই হামলাকারীরা।
অভিযুক্ত খলিল মাঝির বাড়িতে গিয়ে ও তার বক্তব্য জানা যায়নি। এবং তার মুঠোফোন না থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
চরফ্যাসন থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, এঘটনায় আহত প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৯:৩৬ ১৪১ বার পঠিত | ● চরফ্যাসন ● প্রবাসী ● বাড়ি ● হামলা