ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদীর বালু মহালে শর্ত ভঙ্গ করে রাতদিন অর্ধশত ড্রেজার বসিয়ে নির্বিচারে বালু তুলা হচ্ছে । ফলে নদীর তীরবর্তী চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ অসংখ্য গ্রাম রাতদিন অর্ধশতাধিক খননযন্ত্রের গর্জনে কেঁপে উঠছে। ফসলি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়। অথচ প্রশাসন দাঁড়িয়ে আছে নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকায়।
গ্রামগুলো রক্ষায় সোমবার (১৮/ ০৮) প্রেসক্লাব চত্বরে চরলাপাংসহ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের শতাধিক মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন, নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরে আলম নুর আজ্জম।
সূত্র জানায় ,নবীনগর বড়িকান্দি ইউনিয়নের নাসিরাবাদ বালুমহাল ১৪৩২ বঙ্গাব্দ মেয়াদে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ৮ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছে সাহেবনগরের শাখাওয়াত হোসেনের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স। কিন্তু ইজারার নিয়ম মানা হচ্ছে না। বরং রাতদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাংগ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলো নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই শত শত ঘরবাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন , ‘স্বর্ণমহল’ খ্যাত এই বালুমহলকে ঘিরে চলে সশস্ত্র পাহারা। কেউ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসলেই তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয় আর আতঙ্কে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসতে বাধ্য হচ্ছে।
এই বালু ব্যবসায় জড়িত রয়েছে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শতাধিক প্রভাবশালী নেতা-কর্মী।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মেহেদি হাসান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনই ঐক্যবদ্ধ না হলে চরলাপাং, মানিকনগরসহ আশপাশের গ্রামগুলো মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।
পশ্চিম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরে আলম নুর আজ্জম বলেন, অবিলম্বে বিধি বহির্ভূতভাবে সীমানা পেরিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বক্তব্য রাখেন, নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জীবন মিয়া, মাওলানা মেহেদী হাসান, নিয়াজউল্লাহ, সাঈদ, আবু সিদ্দিক, কামাল মিয়া ও সুক্কু মিয়া প্রমূখ ।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার শাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন,আমরা সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করছি। অস্ত্র মহড়া বা রাতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ সঠিক নয়। প্রশাসনকেও বলেছি, রাতে কোনো ড্রেজার চললে জব্দ করতে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী স্মারক লিপি প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন , তার কাছে বালু মহলে অবৈধ কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে বালু মহলে অভিযান পরিচালনা জটিল, কারণ সেখানে মাঝে মাঝে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। চ্যালেঞ্জ রয়েছে তবে শিগগিরই এ সপ্তাহে আগামী সপ্তাহ আর্মি র্যাব পুলিশসহ যৌথ বাহিনী নিয়ে অভিযান চালানো হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৬:৪৩ ১৬২ বার পঠিত | ● এলাকাবাসী ● নদী ভাঙন ● নবীনগর ● মানববন্ধন ● রক্ষা