ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: উজিরপুরে নারী নির্যাতন মামলায় জেল হাজত বাসের প্রতিশোধ নিতে প্রায় এক বছর আগে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া মানসিক ভারসম্যহীন শিশু পুত্রকে হত্যার অভিযোগ তুলে প্রতিপক্ষ মামলার বাদীও তার পরিবারকে হয়রানী করতে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে কামরুল ইসলাম নামক এক মাইক্রেবাস চালকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হয়রানীর শিকার বরিশাল জেলার শিকারপুর বন্দরের ফল ব্যাবসায়ী রুহুল আমিন মুন্সি ২৪ আগষ্ট রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলোনে অভিযোগ করেন তার কন্যাকে অপহরন করার মামলার আসামী কামরুল ইসলাম জেল হাজত থেকে বের হয়ে প্রতিশোধ নিতে এক বছর আগে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া প্রতিবদ্ধি শিশু পুত্রকে হত্যার আভিযোগের নাটক সাজিয়ে মামলার ফাঁদে ফেলে তার পরিবারকে হয়রানী করছেন। ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা মাইক্রোবাস চালক কামরুল ইসলাম তার শশুর বড়ি এলাকায় স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে ভাড়ার বাসায় বসবাস করতেন।
কামরুলের পুত্র সন্তান নিশাত (৮) প্রতিবন্ধি হওয়ার কারনে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতেন পরিবার। সে প্রায় পরিবারের চোখ ফাকি দিয়ে শিকারপুর বন্দরের ছোটা ছুটি করতেন।
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হয় প্রতিবন্ধি নিশাত এরপর তার সন্ধানের জন্য ওই এলাকার সকল মানুষ বিভিন্ন চেষ্টা চালায় নিখোজের ৪ দিন পর ২৪ নভেম্বর শিকারপুর শেরে বাংলা কলেজের পার্শে একটি ডেবার মধ্যে ভাষামান অবস্থায় শিশু নিশাতের মরা দেহ উদ্ধার করেন। নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান লাশটি ময়না তদন্ত’র জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠালে শিশুর পরিবার পরদিন লাশটি ময়মাংসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া এলাকায় দাফন করেন।
চলতি বছরের ৫মার্চ মুন্ডপাশা গ্রামের বাসিন্দা রুহুল মুন্সীর কিশোরী কন্যা আপহরনের ঘটনায় তার স্ত্রী নাসিমা বেগম বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় নিশাতের পিতা কামরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। স্কুল পড়ুয়া কিশেরী কন্যাকে পুলিশ উদ্ধার করে। দীর্ঘ কয়েক মাস জেল হাজতে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে কামরুল মামলার বাদী নাসিমা বেগম তার স্বামী শিকারপুর বন্দরের ব্যাবসায়ী রুহুল আমিন মুন্সি ও তার পুত্র রাতুল মুন্সিকে হয়রানী করার জন্য এক বছর আগে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া শিশু নিশাতকে হত্যার আভিযোগ তুলে নানা ভাবে প্রচার করছেন।
এমনকি গত ৬ আগষ্ট কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে উজিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ওই মামলা দায়েরের পর কামরুল ইসলাম তার পুত্র নিশাতকে হত্যার জন্য প্রতিপক্ষ রুহুল মুন্সি তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ও পুত্র রাতুলকে দায়ী করে নানা ভাবে প্রচারনা চালাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্তিত রুহুল মুন্সির স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন নারী নির্যাতন মামলা থেকে বাচতে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া প্রতিবন্ধি পুত্র নিশাতকে পুজি করে মামলা দিয়ে আমার পরিবারকে হয়রানী করার কৌশল নিয়েছেন কামরুল ইসলাম।
তিনি বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত’র জোড় দাবী জানিয়েছেন। উজিরপুর মডেল থানার ওসি আব্দুস সালাম জানিয়েছেন এক বছর আগে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনায় গত ৬ আগষ্ট একটি মামলা দায়ের হয়েছে বিষয়টি তদন্ত চলছে মামলার বাদী কামরুল ইসলাম একটি আপহরন মামলার আসামী তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:১৭:২০ ৩১১ বার পঠিত | ● উজিরপুর ● চেষ্টা ● ফাঁসানো ● মামলা