ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর বাতির খাল এলাকায় নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল পেতে রেখেছেন একদল অসাধু জেলেরা। শুধু তেঁতুলিয়া নদীর বাতির খাল এলাকা নয়, চন্দ্রদ্বীপের খানকা , নিমদীর চর ও ধুলিয়া পয়েন্টে শত শত নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল পেতে রেখেছেন কতিপয় জেলেরা।
এ যেনো তেঁতুলিয়া নদী জুড়ে নিষিদ্ধ জালের ছড়াছড়ি। এসব জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ হওয়ায় নদীর মাছ, রেনু ও ডিম সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণি আটকে যায়। জেলেরা মাছ বিক্রি করলেও রেনু ও ডিম ধ্বংস করে ফেলছেন। এতে নদী ভাঙন বৃদ্ধি সহ জীব ও বৈচত্রি হুমকিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে তেঁতুলিয়া নদী ঘুরে দেখা যায়, বাতির খাল পয়েন্টে নদীর এলাকায় জুড়ে ৩০ থেকে ৩৫ অবৈধ বেহুন্দি জাল পেতে রাখা হয়েছে। নদীর ওপর পাশে দক্ষিণ চরওয়াডেল, চরনিমদী ও ধুলিয়া লঞ্চ পয়েন্ট শতাধিক বেহুনি জাল পেতে রাখা হয়েছে। জোয়ারের সময় সাগর থেকে বিভিন্ন মাছ নদীতে চলে এসে। ভাটার পানিতে এসব মাছ আবার সাগরে নেমে যায়।
সেই সময় একদল অসাধু জেলেরা সূক্ষ ফাঁসের বেহুন্দি জাল নদী জুড়ে পেতে রাখেন। এতে ছোট বড় মাছ সহ মাছের রেনু, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণি আটকে যায়। জেলেরা মাছ সংরক্ষণ করলেও রেনু ডিম ও জলজ প্রাণি গুলো ধ্বংস করে ফেলেন।
সরকারি আইন মেনে তেঁতুলিয়ায় মাছ শিকার করা জেলেরা জানান, বেহুদি জাল দিয়ে পানি ছাড়া সব আটকে যায়। সকল প্রজাতির মাছ, রেনু পোনা, ডিম , পোকা মাড়ক সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণি আটকে মারা পড়ছেন। সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এসব জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তবে একদল অসাধু জেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা প্রশাসন ম্যানেজ করে এ জাল দিয়ে অবাধে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করছেন। মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযানে নামে প্রশাসন। তবে বেহুন্দি জালের জব্দ বা বন্ধের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেন না। কিছু বেড় জাল, চায়না জাল জব্দ করেই অভিযান শেষ করেন।
চন্দ্রদ্বীপের জেলে জব্বার বলেন, আমরা সরকারের আইন মেনে নদী ও সাগরে মাছ ধরি। কিন্তু একদল নামধারী জেলে শুধু অবৈধ বেহুন্দি জাল, বেড় জাল, কারেন্ট জাল সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল দিয়ে ছোট মাছ ধ্বংস করছেন।
স্থানীয় আরেক জেলে মো. বাবুল বলেন, কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই তেঁতুলিয়া নদীকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন। আমরা নিয়ম মেনে নদীতে মাছ ধরতে নামি, কিন্তু নদীতে তো আর মাছ নেই। সবই ওদের বাঁধা জালে আটকা পড়ে। আমাদের ঘরে চুলা জ্বলে না, অথচ ওরা লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে।
চরমিয়াজান গ্রামের জেলে হাবিব মাঝি বলেন,‘ প্রশাসন সব জানে, কিন্তু কিছুই করে না। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই প্রকাশ্য রেনু পোনা ডিম ধ্বংস করা হচ্চে। যে কারণে নদীতে মাছ কমে যাচ্ছে।
বাউফলে পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম নেতা এম. এ বাশার বলেন, বাঁধা জাল শুধু মাছের প্রজনন ধ্বংস করছেনা, নদীর পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নামিয়ে আনছে। এখনো যদি এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তেঁতুলিয়া নদী মাছ শূণ্য হয়ে পড়বে।
এবিষয়ে উপজেলা মৎস্য বিভাগের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। অল্প সংখ্যক লোকবল নিয়ে অভিযান চালানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। তার পরেও আমি দুই এক দিনের মধ্যেই অভিযানে নামবো।
কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশ ফাড়ির দায়িত্বে থাকা এস আই আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। আমরা প্রায়ই অভিযান চালাই। তবে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৭:১৭ ১৮৫ বার পঠিত | ● ছড়াছড়ি ● জাল ● বাউফল ● বেহুন্দি