ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: চরফ্যাসনের বসত বাড়ির সীমনা বিরোধ নিয়ে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এতে একই পরিবারের দুই অন্তঃস্বত্তা নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এঘটনায় রোববার হামলার শিকার কৃষক আমির হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামী করে চরফ্যাসন জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদলতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত ৮ আসামীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আদেশ জারী করেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর আর কলমী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ৬ জনকে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তির করেছেন। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন বলে জানাগেছে।
আহত কৃষক আমির হাসেন জানান, নজরুল নগর ইউনিয়নের চর আর কলমী মৌজায় তিনি এবং তার অপর ওয়ারিশ দেলোয়ার হোসেন খাঁসহ তারা বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি সময়ে দেলায়ার হোসেন খাঁর অপর এক ওয়ারিশ ইমান আলী খাঁ তার ওয়ারিশি জমি প্রতিবেশী মহিজলের কাছে বিক্রি করেন।
জমি বিক্রির পর থেকেই প্রতিপক্ষ মহিজল ও সহিজল তাদের জমির সীমানা নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ শুরু করেন। এনিয়ে স্থানীয় মাতাব্বরা ওই জমির সীমানা পরিমাপ করেন সীমানা নিদ্দারন করে দেন। কিন্ত প্রতিপক্ষ মহিজল ও সহিজল স্থানীয় মাতাব্বরদের শালিশ উপেক্ষ করে তাদের জমি জবর দখলের চেষ্টা করেন।
এনিয়ে কয়েক দফায় পরিমাপ হয়। জমি পরিমাপে মফিজলদের খরিদা দখলকৃত জমি সঠিক থাকলেও ওই চক্র তা মেনে নিতে নারাজ। ঘটনার দিন বৃস্পতিবার স্থানীয় মাতাব্বররা ফের ওই জমি পরিমাপ করে সীমনা নিদ্দারন করে দিলেও মহিজল ও সহিজলের নেতৃত্বে তার পরিবারের সদস্যরা সীমান পিলার তুলে ফেলেন। এনিয়ে তার ছেলে তরিকুলের সঙ্গে মফিজলদের তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। ওই তর্কের জের ধরে প্রভাবশালী মহিজল ও সহিজলসহ তার পরিবারের সদস্যরা দলবদ্ধ হয়ে তার ছেলে তরিকুলের ওপর হামলা চালায়।
এসময় ছেলেকে রক্ষায় তিনিসহ তার পরিবারের অপর সদস্যরা এগিয়ে গেলে মহিজল ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রে জজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। এতেই থেমে যাননি ওই হামলাকারীরা। তারা বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
এটনায় তিনি শশীভূষণ থানার একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি গতকাল রোববার চরফ্যাসন জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত মহিজল জানান, জমি পরিমাপ শেষে আমির হোসেনের ছেলে ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে গালমন্দ করেন । এনিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূইয়া জানান, তাদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এবং চিকিৎসা শেষে তাদের থানায় আসতে বলা হয়েছে তবে কেউ আসেনি।
বাদী পক্ষের আইনজীবি মইনুল ইসলাম সরমান জানান, হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত কৃষকের দায়ের করা মামলাটি বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে সু-বিচার নিশ্চিত করতে আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারী করেছেন। এতে বাদী পক্ষ সঠিক বিচার পাবেন।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ২০:১১:৪৮ ১৫৯ বার পঠিত | ● আহ ● চরফ্যাসন ● হামলা