ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বিচ্ছিন্ন নদীবেষ্টিত তিন চরের মানুষ

নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বিচ্ছিন্ন নদীবেষ্টিত তিন চরের মানুষ


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫


নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত তিন চরের মানুষ

পটুয়াখালী: দশমিনা উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নদীবেষ্টিত দীপ চরাঞ্চলে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা এখনো পৌঁছায়নি। এ উপজেলার উল্লেখযোগ্য বড় তিনটি চরের চারপাশে নদী হওয়ায় সেখানে যেতে নদীপথ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। ২০ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস উপজেলার চরবোরহান, চরশাহজালাল ও চরহাদিতে। সেখানে পৌঁছায়নি জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সব সুবিধা। প্রতিনিয়ত জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয় ওই তিনটি চরসহ এ উপজেলার বাসিন্দাদের।
এ ছাড়া চরাঞ্চলের রাস্তাঘাটের নেই তেমন উন্নতি। সিংহভাগ এলাকায় কাঁচামাটির সড়ক। প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য পরিমাণ পাকা রাস্তা থাকলেও নেই তেমন কোনো সেতু। বাঁশ-কাঠের সাঁকোই ভরসা চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর। চরের বাসিন্দাদের যাতায়াতে হাতেগোনা কয়েকটি ছোট বাহন থাকলেও সেতুর অভাবে তা চালাতে হয় নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর। ভাড়াও তুলনামূলক বেশি।
উপজেলার বড় তিনটি চরেই বিদ্যুৎ পৌঁছলেও বাড়েনি চরবাসীর জীবন উন্নয়নের মান। গ্রাকদের বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে দালাল চক্রকে দিতে হয়েছে ঘুষ।
চরবোরহান, চরশাহজালাল ও চরহাদিতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। চরের নিরক্ষর মানুষের বাল্যবিয়ের কুফল অনেকটা অজানা। তারা মনে করেন, যতদ্রুত বিয়ে দিয়ে কন্যাকে সাংসারিক করা যায় ততোই সন্তানের জন্য মঙ্গল। অনেক পরিবার ছেলে সন্তানদের করান অল্প বয়সে বিয়ে। তাদের মতে, ছেলেরা দ্রুত বিয়ে করলে রোজগার করে সাংসারের হাল ধরবে। পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করবে।
চরের শিশুরা নানা কারণে পুষ্টিহীনতায় ভোগে। মা-বাবার অসচেতনতাই প্রধান কারণ। এখানকার বাবা মায়েদের সিংহভাগ জানেন না; কোন বয়সের শিশুদের কিভাবে পরিচর্যা করতে হয়। শিশুদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে তাদের কি ধরনের খাবার খাওয়াতে হবে। সেখানকার মায়েরা শিশুদের ভাতের ওপর নির্ভরশীল করে বড় করে তোলেন। তবে, দারিদ্রতার কারণে বহু পরিবার তাদের সন্তানদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।
চরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই বেহাল অবস্থা। অসচেতন বাবা-মা একদিকে যেমন শিশু সন্তানের শিক্ষা বিমুখ ঠিক তেমনিই সেখানের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আছে স্বেচ্ছাচারিতা। মা-বাবা সন্তানদের পড়াশোনার চেয়ে আয়-রোজগারে বেশি আগ্রহী। চরাঞ্চলে হাতেগোনা কয়েকটি বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন না- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও তা বন্ধে বা তার উপর কালো ছায়া আছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের।

এছাড়াও এই চরের যেসব শিশুরা পড়াশুনা করেন; তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সমস্যা অন্যতম একটি কারণ। চরাঞ্চল হওয়ায় প্রায় বারো মাসই যেনো জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকে চর। জোয়ারের পানিতে ভিজেই স্কুলে যেতে হয় অনেক শিক্ষার্র্থীকে।
অপরদিকে চরের মানুষের চিকিৎসাসেবা বলতে কেবল স্থানীয় ছোট ফার্মেসি ও হাতুড়ে ডাক্তারই ভরসা। অনেকে নির্ভর করেন কবিরাজি চিকিৎসার উপর। চরবোরহানে সরকারের প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও তা নিয়ে আছে স্থানীয়দের অভিযোগের পাহার। উপজেলা সদর থেকে তিনটি চরেরই যাতায়াতের মাধ্যম দীর্ঘ নদীপথ হওয়ায় বহু মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসাসেবা থেকে। অসুস্থদের দীর্ঘ নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে নিতে গিয়ে ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা।
স্থানীয় চরের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, চরবাসী তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য তেমন গুরুত্ব দেন না। ছেলে একটু বড় হলে জেলে পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত করেন। এখানে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি পানি হলেই চরগুলো তলিয়ে যায়। আছে নদী ভাঙন। অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে দিয়ে দেন। ছেলেদেরও প্রায় একই অবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে করিয়ে দেন বিয়ে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনে প্রশাসন কাজ করছে। তাদের যখন যা প্রয়োজন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:২২:৫০   ৭৯ বার পঠিত  |               







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ