ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » চরফ্যাসনে চেয়ারম্যানের প্রেমের ফাঁদে ফেসে প্রবাসীর স্ত্রীর সর্বনাশ

চরফ্যাসনে চেয়ারম্যানের প্রেমের ফাঁদে ফেসে প্রবাসীর স্ত্রীর সর্বনাশ


বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫


চরফ্যাসনে চেয়ারম্যানের প্রেমের ফাঁদে ফেসে প্রবাসীর স্ত্রীর সর্বনাশ

ভোলা: দ্বিতীয় স্ত্রী সাথীকে বিয়ের পর কাবিনের নামে প্রতারনা ও ছেড়ে যেতে হত্যার হুমকী প্রদানের অভিযোগ উঠেছে চরফ্যাসনের চর মানিকা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন রাসেল’র বিরুদ্ধে। ভিক্টিম সাথী বৃহস্পতিবার চরফ্যাসন উপজেলা রিপোটার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন হুমকী ও প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করে নিরাপত্তার আকুতি জানিয়েছেন।

সাথী তার অভিযোগে বলেছেন, তার পৈত্রিক বাড়ি চরফ্যাসনের চর আইচা থানাধীন ঢালচরে। ১৬ বছর আগে বোরহান উদ্দিনের এক প্রবাসীর সাথে তার বিয়ে হয়। সেই সংসারে তার জিসান নামে একটি পুত্রসন্তান আছে। ওই পুত্রসন্তানের পড়া-লেখার সুবিধার জন্য তিনি পৈত্রিক এলাকার চর মানিকার দক্ষিণ আইচা বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

এখানেই ছাত্রলীগ নেতা এবং পরবর্তীতে চর মানিকার চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিনের কু-নজরে পরেন তিনি। চেয়ারম্যানের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তার প্রবাসী স্বামীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়িয়ে তার প্রবাসী স্বামী সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে প্রবাসী স্বামীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে সাথীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।

প্রথম স্বামী কর্তৃক তালাক প্রাপ্ত হওয়ার পাশাপাশি সঞ্চিত টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাসেল সাথীকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে শুরু করেন। সেই সম্পর্কের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হন রাসেল এবং বিজয়ী হন। সেই নির্বাচনের সময় সাথীর প্রবাসী স্বামীর পাঠানো সঞ্চিত ১৫ লাখ টাকা রাসেল হাতিয়ে নেন এবং সাথীকে নিজের কব্জায় নিয়ে নেন।

এসবের মধ্যে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে রাসেল সাথীকে নিয়ে ঢাকায় গা-ঢাকা দেন এবং নারায়নগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি বাসাভাড়া নিয়ে ২৪ সনের ২৩ ডিসেম্বর মিরপুরের একটিন একটি কাজী অফিসে

সংসার শুরু করেন। বিয়ে এবং সংসার নাটকেও শুরু হয় স্বামী রাসেলের প্রতারণা।

সাথী বলেছেন, ১০ লাখ টাকা কাবিন করার কথা বলে মাত্র ১লাখ টাকা কাবিনে লিখে রাসেল তার সাথে প্রতারণা করেছেন। এই সুযোগে রাসেল নিজের ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে নারায়নগঞ্জের বাসায় নিজকে ভিক্টিম সাজিয়ে মবসৃষ্টি করে হামলা,ভাংচুর চালিয়ে তার স্বর্নালংকার সব লুটপাট করে নিজের দখলে নিয়ে নেন।

এমন নাটকের মধ্যদিয়ে রাসেল পুলিশের হাতে ধরা দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে জেলে চলে যান এবং ১৫ দিন পর জেল থেকে বের হয়ে ভোলা সদরে বাসাভাড়া নেন। ‘এই ভোলার ভাড়াবাসায় আসার পর রাসেল আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবী করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে রাসেল তার মা এবং চাচাতো ভাই দুলালকে পাঠিয়ে বাসায় আমাকে মারধর করে আহত করেন। আমি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেই, জানান সাথী।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী রাসেল তার কোন খোঁজ খবর নেননি বরং তিনি সাথীকে তালাক প্রদান এবং হত্যার হুমকী দিচ্ছেন,বলেছেন সাথী। পাশাপাশি তার পালিত বাহিনী দিয়ে তাকে হত্যার হুমকীও দিচ্ছেন। নিয়মিত হত্যার হুমকীতে তিনি উদ্বিগ্ন এবং আতংকিত। এই হুমকী-ধামকীর মধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর সাথী স্বামী রাসেলের খোঁজে তার চর মানিকার বাড়িতে যান এবং সেখানে গেলে প্রথম স্ত্রীসহ তার পুরোপরিবার সাথীকে মারধর করে বের করে দেন।

প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ও ইউপি চেয়ারম্যনের প্রেম প্রতারণার ফাঁদে ফেসে সাথী এখন সংসার আর নিরাপত্তার খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন রাসেল সাথীকে নিজের বিবাহিত স্ত্রী দাবী করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:২১:৫১   ৫০৯ বার পঠিত  |         







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ