ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কুয়াকাটায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন

কুয়াকাটায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫


কুয়াকাটায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন

পটুয়াখালী: কুয়াকাটায় পুণ্যস্নানের আগে রাসভক্তদের ভিড়। সব ভক্তের দৃষ্টি যেন পুব আকাশে। অপলক নয়নে তাকিয়ে আছেন। সাগরের বুক চিরে সূর্যের লাল আভা উঁকি দেওয়ার আগেই হাজার হাজার রাসভক্ত নরনারী জড়ো হন কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমে। উলুধ্বনিতে সরগম গোটা সৈকত। রাসভক্ত পুণ্যার্থীরা কেউ পূজা করছেন।

কেউবা স্নানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বুধবার ভোরের আলো না ফুটতেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় পুণ্যার্থীর মিলনমেলায়। হাজার হাজার ভক্তের যেন মিলন মেলা বসে। এ বছরও শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ রাস উৎসবে ভক্তদের যেন ঢল নামে।
অর্ধলক্ষাধিক রাসভক্তের সমাবেশে কুয়াকাটা সৈকতের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা পূর্ণ হয়ে যায়। সাগরে হাজার হাজার ভক্তের পুণ্যস্নানেনে বিরাজ করে এক ভিন্ন চেহারা। ফি বছরের মতো সনাতন ধর্মের অনুসারী হাজার হাজার নরনারী সারাবছরের পঙ্কিলতা দূর করেন সাগরে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে। কেউ বা করেন এখান থেকে পানি সংগ্রহ। আসেন জাগতিক পাপ মোচনের আশায়। রাসভক্তদের কোলাহলে গোটা সৈকত মুখরিত হয়ে ওঠে।
রাসলীলার এই পুণ্যস্নানে অংশ নিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাসভক্তদের কুয়াকাটায় আগমন শুরু হয়। সেখানকার রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে সমবেত হন হাজার হাজার রাসভক্ত পুণ্যার্থী। সারারাত জেগে তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। কেউ বা আবার প্রিয়জনের জন্য করেন কেনাকাটা।

প্রত্যুষে সাগরে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে সেখানকার অনুষ্ঠানমালার শেষ করেন। রাসভক্ত অনেকে জানালেন, রোগ শোক থেকে মুক্তির আশায় তারা সপরিবারে পুণ্যস্নানে এসেছেন। কেউ বাসে, কেউবা অটো কিংবা ইজিবাইক নিয়ে এসেছেন রাস উৎসবে।
এ বছর রাসমেলার সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুল হক। পটুয়াখালীর ডিডি এলজি জুয়েল রানা। এ সময় কলাপাড়ার ইউএনও কাউছার হামিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেকসহ গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আরেক পর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন আলাদাভাবে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।
ভক্ত পুষ্পিতা রাণী জানান, তিনি এ নিয়ে ১১ বার পুণ্যস্নানে কুয়াকাটায় আসেন। তার বিশ্বাস এখানে পুণ্যস্নানে তার সকল মনের বাসনা পূরণ হয়। সারাবছরের পাপ মোচনের আশায় সে এ বছরও সপরিবারে এসেছেন। মধাব-সাগরী দম্পতি জানান, ফি বছরের মতো পুণ্যের আশায় সাগরে পুণ্যস্নানে তারাও সপরিবারে এসেছেন। এদের বিশ্বাস সারাবছরের পঙ্কিলতা দূর হবে  পুণ্যস্নানসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে। শ্রী কৃষ্ণের রাসলীলা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন বলেন ‘পূজার আনুষ্ঠানিকতায় রাতভর চলে নামকীর্তন।
ভগবৎপাঠ ও আরতি। শ্রীকৃষ্ণের লীলাকীর্তনে অংশ নেন ভক্তরা। এ বছর বুধবার সূর্যোদয় থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুণ্যস্নান করতে পারবেন শ্রীকৃষ্ণের রাসভক্তরা। ভক্ত সমীর চন্দ্র জানান, সারাবছর এই ক্ষণটির জন্য অপেক্ষা করেন। এবারও তাই ছুটে এসেছেন সপরিবারে। মোটকথা কুয়াকাটায় এ বছর রাসভক্তের যেন ঢল নেমেছিল।
শ্রীকৃষ্ণের রাসভক্তরা বিকেল থেকে উপজেলা সদর কলাপাড়ার মদনমোহন সেবাশ্রমে ধর্মীয় উৎসবে মিলিত হচ্ছেন। সেবাশ্রমে স্থাপন করা রাধাকৃষ্ণের ১৭ জোড়া যুগল প্রতিমা দর্শন ছাড়াও ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন আগতরা। সেবাশ্রম অঙ্গনে ব্যাপক পরিসরে দোকানপাট বসেছে। এখানে শুরু হয়েছে পাঁচদিনের রাসমেলা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্ণিমার উৎসবকে ঘিরে কলাপাড়া-কুয়াকাটায় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণ ফিরে পায় ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেল থেকে সকল দোকানপাটে থাকে ক্রেতার উপচেপড়া ভিড়। রাস পূর্ণিমার তিথিতে কুয়াকাটায় বঙ্গোপসাগরে পুণ্যস্নানে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য সকল ধরনের ব্যাপক নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কুয়াকাটা সি-বিচ ম্যাজেমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, রাস পুর্ণিমা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা-উপজেলা ও পৌরপ্রশাসনের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া সার্বক্ষণিক থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ পাঁচ শতাধিক সদস্য আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। মন্দির এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আগত রাসভক্তদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্যানিটেশন ব্যবস্থার জন্য অস্থায়ী লেট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। পুণ্যার্থীর নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য মোটরসাইকেলসহ হাল্কা যানবাহন নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেল, টমটম, অটোরিক্সায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা ছিল। আগতদের জরুরি স্বাস্থ্য সেবার জন্য ছিল মেডিক্যাল টিম।
রাসভক্ত নারীরা পুণ্যস্মান শেষে যেন শালীনতা বজায় রেখে পোশাক পরিবর্তন করতে পারেন এ জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। ব্যবস্থা রয়েছে সুপেয় পানির। পুণ্যস্নানে সময় সকল ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক উদ্ধারকারী দল ফায়ার সার্ভিস টিম রাখা হয়েছে। কুয়াকাটা সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাস উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের যেন ঢল নামে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা উপজেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল প্রশংসনীয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক জানান, এবারে নির্বিঘ্নে সব সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। রাসভক্তরা স্বস্তিতে সব সম্পন্ন করেছেন। দুপুর থেকে রাস উৎসব শেষ করে ভক্তরা ফিরতে শুরু করেন যার যার গন্তব্যে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:২০:১৬   ১৪১ বার পঠিত  |      







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ