ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: বরগুনা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের নিরাপত্তার আশ্বাসে আমতলীতে গণধর্ষনের শিকার হিন্দু গৃহবধূ (৩৮) শনিবার দুপুরে নিজ বাড়ি ফিরে গেছে। বাড়ি ফেরার পর আমতলীর ইউএনও, ওসি, বরগুনা ও আমতলী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদেও নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাদের সকল নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান।
শুক্রবার আজকের রূপান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমে ‘দুই দফায় ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ এখন গ্রামছাড়া’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর তোলপার শুরু হয় দেশ জুরে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে ওই নারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তাদেরকে বাড়িতে ফিড়িয়ে নেওয়া হয়।
শনিবার দুপুরে পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার জন্য আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খান, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান, বরগুনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা কমিটির আহবায়ক এ্যাডভোকেট সুশান্ত কুমার বেপারী, যুগ্ম আহবায়ক মানিক সিকদার, সদস্য সচিব জয়দেব রায়, সদস্য অশোক কুমার মজুমদার, আমতলী উপজেলা কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট হরিহর চন্দ্র দাস, সহ-সভাপতি সুবোধ চন্দ্র শীল মিল্টন সাধারন সম্পাদক জগদিশ চন্দ্র বসু প্রমুখ ওই বাড়িতে যান। এসময় তারা গ্রামবাসী ও ওই পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।
গত ২৩ ও ২৯ আক্টোবর আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামের নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে সাইফুল ইসলাম হাওলাদার (২৫), একই গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে মো. ইমরান হাওলাদার একই গ্রামের এক হিন্দু পরিবারের গৃহবধূকে (৩৮) হত্যার হুমকি দিয়ে হাত পা বেধে দু’দফা গণধর্ষণ করেন। এসময় নির্যাতনের ভিডিও ধারন করেন ইমরাজ হওলাদার (২২) নামে আরেক যুবক। আসামীরা নির্যাতনের এ ঘটনা ফাঁস করলে তাদের ধারন করা ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখায়।
নির্যাতনের এঘটনায় ওই গৃহবধূ ১ নভেম্বর শনিবার রাতে সাইফুল, ইমরান, ও ইমরাজকে আসামী করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে তার ডাক্তারী পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। মামলায় রাতেই দুই নম্বর আসামী ইমরানকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।
মঙ্গলবার ৪ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে তিন নম্বর আসামী ভিডিও ধারনকারী ইমরাজকে গ্রেপ্তার করে বুধবার জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। দুই নম্বর আসামী ইমরান ৫ নভেম্বর বুধবার আদালতে থেকে জামিনে বের হন। ইমরান জামিনে বেড় হয়ে আসায় ও ১ নম্বর আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় নির্যাতিত ওই পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেওয়ায় এবং হুমকির ভয়ে পরিবারটি অন্যত্র আশ্রয় নেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই নারীর পরিবারটির নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক পুলিশী নজর দারিতে রাখা হয়েছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, ওসিকে সাথে নিয়ে শনিবার বিকেলে নির্যাতিত পরিবারটির বাড়ি পরিদর্শন করি। তাদের পরিবারের এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। তাদের নিরাপত্তার জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. আল মামুন সিকদার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবার সকল ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩২:০৭ ১৭০ বার পঠিত | ● আমতলী ● ধর্ষণ ● নারী ● বাড়ি