ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নারায়গঞ্জ: আড়াইহাজারে বিভেদ ভুলে এক মঞ্চে উঠেন মনোনয়ন বঞ্চিত তিন বিএনপি নেতা। সোমবার বিকেলে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত “বিপ্লব ও সংহতি দিবস”-এর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তিন বিএনপি নেতা এক মঞ্চে উঠেন। এ সময় তাদের হাজারো কর্মী সমর্থক মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানান।
দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মহিলা দলের এক নেত্রীসহ চারজন নেতা। তারা হলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির সহ অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক সাংসদ আতাউর রহমান আঙ্গুর ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার। তাদের প্রত্যেকেই মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে বেশ দৌড়ঝাপ করেছিলেন।
কিন্তু দল চূড়ান্তভাবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে মনোনয়ন দেন। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত বাকি তিনজন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সোমবার বিকেলে “বিপ্লব ও সংহতি দিবস” উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে একত্রিত হন। এসময় ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য কয়েক হাজার নেতাকর্মীর দাবীর প্রতি তারা যৌথভাবে একাত্মতা প্রকাশ করেন। সমাবেশ শেষে তারা নেতাকর্মী সাথে নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নানা স্লোগান দেয়।
সাবেক সাংসদ আতাউর রহমান আঙ্গুর বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মী ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রার্থীকে নির্বাচনী মাঠে নামানো হয়েছে। যে তালিকা দিয়েছেন এই তালিকা আমরা আড়াইহাজারবাসী গ্রহণ করে নাই। আপনার (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান) কাছে আবেদন করেছি। আমাদের আবেদন নিবেদন পুনরায় বিবেচনা করার জন্য। এক কথা মনে রাখবে আমরা কিন্তু নির্বাচন করবো। আমরা নির্বাচনে আছি। আমরা ৪০ বছর ধরে বিএনপিতে আছি। ৯১ সাল থেকে আমি তিনবার এমপি হয়েছি। আমি আশা করছি যাচাই বাছাই করে সঠিক লোককে মনোনয়ন দিবেন। সঠিক লোককে মনোনয়ন দিলে আমরা তিনজনে ঝাপিয়ে পড়বো।
কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার বলেন, চূড়ান্ত মনোনয়ন পর্যন্ত সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলের সাথে বেঈমানী করতে পারিনা। ধানের শীষ আমাদের রক্তে মিশে আছে। সবশেষে জনগনের মতামতকেই প্রধান্য দিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষনা করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন বলেন, বর্তমানে দেশ নায়ক তারেক রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও গণমানুষের আস্থার প্রতীক। দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। মনোনয়নের এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সিদ্ধান্তের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারীদের পক্ষ নেব না। আমরা কোন জালিমের সাথে থেকে জাহান্নামে যেতে চাই না। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমার সকল অন্যায় অত্যাচারকে মোকাবেলা করবো। চাঁদাবাজ, তালাবাবা ইয়াবা বাবা চাই না। আমরা সন্ত্রাসী, ডাকাতি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা ধানের শীষের পক্ষে, শান্তির পক্ষে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপিতে বিভাজন চলছিল। সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং তার আপন ভাতিজা বিএনপির সহ অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার আলাদাভাবে নিজেদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। তিনজনই নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এখন বিভেদ ভুলে তারা একসঙ্গে নির্বাচনে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ায় উত্তাপ বাড়ছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ভোটের মাঠে। শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ।
এ ব্যপারে নজরুল ইসলাম আজাদ সমর্থিত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহম্মেদ বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবার তৃণমূলের কর্মীদের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতার গ্রহণযোগ্যতা, বিতর্কহীন ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে দল বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে মনোনয়ন দিয়েছে। সবশেষ আমার ধানের শীষের লোক। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আড়াইহাজারে ধানের শীষকে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে বিজয়ী করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৫:১৭ ৭৫ বার পঠিত | ● আড়াইহাজার ● এক ● নেতা ● বঞ্চিত ● মঞ্চ ● মনোনয়ন