ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কয়েকজন গাছ ব্যাপারীর কাছে গাছকাটা শ্রমিক ইন্তাজ আলীর পারিশ্রমিক বাবদ অনেক টাকা বকেয়া পড়েছে। টাকা আদায় করতে না পেরে সাড়ে তিন মাস আগে ব্যাপারীদের নাম এবং পাওনা টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে স্থানীয় রাস্তার মোড়ে একটি ব্যানার টানিয়ে দেন তিনি। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ গিয়ে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে ব্যানারটি নামায়। কিন্তু এত দিনেও অনেকে টাকা পরিশোধ না করায় ব্যানারটি আবার টানিয়েছেন তিনি। এবার আর দোকানের সামনে নয়; অনেক ওপরে টানিয়েছেন ব্যানার।
ইন্তাজ আলীর বাড়ি নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউপির টংগিরচর গ্রামে। দুই বছর আগে তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। রয়েছে চার ছেলে ও দুই মেয়ে। জমিজমা বলতে বসতভিটার মাত্র ১০ শতক জায়গা। দৈনিক সাত-আটশ টাকা মজুরিতে ব্যাপারীদের গাছ কেটে দেওয়াই ছিল তাঁর কাজ। এ কাজ করতে গিয়ে অনেকের কাছেই তাঁর পারিশ্রমিকের টাকা বকেয়া থাকে। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও পাওনা টাকা পরিশোধ করছিলেন না অনেকে।
এদিকে বয়স বাড়ার কারণে প্রায়ই অসুস্থ থাকেন ইন্তাজ আলী। গাছ কাটার মতো পরিশ্রমের কাজ আর করতে পারছেন না। টুকটাক কৃষিকাজ করে সংসার চালান।সাড়ে তিন মাস আগে পাওনাদারদের নামে থানায় একটি অভিযোগও দিতে যান ইন্তাজ আলী। কিন্তু পুলিশ স্থানীয় লোকজন সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দিয়ে তাঁকে বিদায় করেন। এর পর গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি ব্যানার তৈরি করেন।
ব্যানারে ছয় পাওনাদারের নাম এবং বকেয়া টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে তাঁর বাড়ির সামনে তিন রাস্তার মোড়ে একটি দোকানের সামনে টানিয়ে রাখেন। বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ক্ষেপে যান গাছ ব্যাপারীরা। ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ গিয়ে টাকা পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে ব্যানারটি নামানোর পাশাপাশি ইন্তাজ আলীকে নিয়ে ব্যাপারীদের কাছে গিয়ে টাকা পরিশোধের তাগাদা দেন। তখন বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর সাড়ে তিন মাস পার হলেও সে টাকা পরিশোধ করা হয়নি। টাকা না পেয়ে ফের ব্যানারটি টানিয়ে দেন তিনি।
গত মঙ্গলবার বিকেলে টংগিরচর তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে ব্যানারটি ঝুলতে দেখা যায়। তবে ব্যানারে দুটি নাম লাল কালি দিয়ে কাটা। স্থানীয়রা জানান, সুজন ও রতন ব্যাপারী টাকা পরিশোধ করায় তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।বাড়িতে গিয়ে ইন্তাজ আলীকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মেয়ে শাপলা আক্তার জানান, তিনি মানুষের বাড়িতে কাজে গেছেন।
ব্যানারে নাম থাকা হুমায়ূন ব্যাপারী বলেন, ইন্তাজ আলী তাঁর কাজ করে যা পান তা সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে গেছেন। এর পরও যদি কিছু বকেয়া থেকে থাকে সেটা ব্যানারে না লিখে এমনিতে চাইলেই দিতেন। যেহেতু ব্যানার টানিয়েছেন, তাই এখন আর দেবেন না।সুজন ব্যাপারীর ভাষ্য, তাঁর কাছে ৭৫০ টাকা পাওনার বিষয়টি জানতেন না। পুলিশ ইন্তাজ আলীকে সঙ্গে নিয়ে এসে টাকা পরিশোধের কথা বললে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। তবে তাদের নাম লিখে ব্যানার টানানো উচিত হয়নি।
আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনুর ভাষ্য, আগে যেহেতু পুলিশ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে, তাই এখন টাকা আদায়ে তাদেরই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল-আমিন জানান, তিনি এখানে নতুন যোগদান করেছেন। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখবেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩০:১১ ১০৩ বার পঠিত | ● আদায়ে ব্যানার ● টানালেন বৃদ্ধ ● পাওনা টাকা