ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঝালকাঠি: কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়ার বধ্যভূমিটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সরকারি ভাবে এটি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এটি গোচারণ ভুমিতে পরিণত হয়েছে।
জানাগেছে, ১৯৭১ সনের ২৫ মে বুধবার পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে ৪২জন শহীদ হন এখানে। এদিন সকালে আমুয়া বাঁশবুনিয়া ও ছোনাউটা গ্রাম ঘেরাও করে বাড়ী বাড়ী তল্লাসী করে তিন গ্রামের ৪২জন মুক্তিকামী মানুষকে পাক বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসরেদের সহায়তায় নির্মমভাবে হত্যা করে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আমুয়া ইউনিয়নে একটানা অভিযান চালিয়ে ৫শত ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এবং ওইসব বাড়ীতে লুটপাট চালানো হয়।
পাক সেনাদের হাতে দেবেন্দ্র রায়, হরেন্দ্র নাথ দাস, সুকুমার দত্ত, সম্ভু চরণ, বাবু রাম মালাকার, পরেশ চন্দ্র বালা, অনন্ত কুমার হালদার, সুর্য্যকান্ত মন্ডল, কালিকান্ত মন্ডল, প্রফুল্ল হালদার, কাশিশ্বর শীল, রাজ শীল, নারায়ণ হালদার, বিশ্বেশ্বর শীল, যজ্ঞেশ্বর হালদার, শ্যামকান্ত হালদার, গণেশ চন্দ্র হালদার, মায়া রানী, গঙ্গা চরণ মাঝি, সুর্যকান্ত মাঝি, রাম কানাই মিস্ত্রী, সুধারাম মিস্ত্রী, হরেন্দ্র নাথ, কৈলাশ চন্দ্র দাস, হাতেম আলী, হাসেম মাঝি, আফজাল হোসেন, হাতেম হাজী, আঃ বারেক হাওলাদার, গণেশ চন্দ্র রায়, তোফাজ্জেল হোসেন রাজা রমনী দাস, শিশু কুমার দাস, নিত্যানন্দ রজক দাস, জিতেন্দ্র নাথ, অমূল্য সাধক, শ্রীহরি নাথ, সনাতন ঠাকুর, অনন্ত কুমার রায়, মহেন্দ্র নাথ ও গোপাল চন্দ্র নাথ শহীদ হন।
শহীদ হওয়া পরিবারগুলি স্বাধীনতার ৫৪ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর দেয়া এক বান্ডিল ঢেউটিন ও ৬শত টাকা করে ছাড়া আর কিছুই পায়নি তারা।
বদ্ধভুমি গণকবর এলাকায় স্মৃতি ফলক নির্মাণ করে শহীদের স্মৃতিটুকু ধরে রাখার জন্য দীর্ঘদিন সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন করার পর ২০১৪ সনে জেলা পরিষদের অর্থায়নে তালতলা বাজার সংলগ্ন বাঁশবুনিয়া হাই স্কুলের সামনে গণকবর বদ্ধভূমিতে ছোট পরিসরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।
সেখানে ৪২জন শহীদের নাম ফলক থাকায় নুতন প্রজম্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারলেও সীমানা প্রাচীর না থাকায় অযত্ন অবহেলায় অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে বদ্ধভুমিটি।
প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস এলেই বধ্যভুমিটি পরিস্কার করা হয়। বছরের বাকিটা সময় অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকে বধ্যভূমিটি।
বাঁশবুনিয়া গ্রামের মনোরঞ্জন হালদার পাক বাহিনী এই গ্রামে প্রবেশ করার পর জঙ্গলে আতœগোপন করে প্রাণ বাচিয়েছে। তিনি জানান, পাক বাহিনী চলে চলে যাওয়ার পরে সে সহ আরো কয়েকজন মিলে ৩টি গর্ত করে পাক বাহিনীর হত্যা করে রেখে যাওয়া ১৫/১৬জনকে মাটি চাপা দিয়েছে।
আমুয়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা নারায়ণ চন্দ্র কাঞ্জিলাল বাবুল ঠাকুর ১৯৭১ সনের সেদিনের স্মৃতিচারণ করেন। আবেগ আপ্লত কন্ঠে নিহত ব্যক্তিদের শহীদের মর্যাদার দাবী জানান।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধার ফজলুল হক মৃধা বধ্যভূমিটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার কথা স্বীকার করে বলেন,বধ্যভূমিতে নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.মকবুল হোসেন জানান, স্মৃতিসৌধের চারপাশে বাউন্ডারি দেয়াল দিয়ে সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৬:২৫ ৯০ বার পঠিত | ● কাঁঠালিয়া ● বধ্যভূমি গোচারণ ● ভূমি