ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ময়মনসিংহ » ‘আমি না থাকলে কি নির্বাচন থেমে যেত?’, সন্তান হারিয়ে পুলিশ সদস্যের আবেগঘন আকুতি

‘আমি না থাকলে কি নির্বাচন থেমে যেত?’, সন্তান হারিয়ে পুলিশ সদস্যের আবেগঘন আকুতি


জেলা প্রতিনিধি ( নেত্রকোনা )
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


আমি না থাকলে কি নির্বাচন থেমে যেত?’, সন্তান হারিয়ে পুলিশ সদস্যের আবেগঘন আকুতি

নেত্রকোনা: জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দায়িত্ব পালনের চাপের মধ্যেই সন্তান হারানোর মতো চরম ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য মেহেদি হাসান। সন্তানের মৃত্যুর সময়েও ছুটি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার কয়েকটি আবেগঘন স্ট্যাটাস ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেহেদি হাসান লেখেন, ‘ছুটি চাইছিলাম, পাইলাম না; আমার ছেলেটা মারা গেল!!!’ একই পোস্টে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ, আমি না থাকলে নির্বাচন আটকে যেতো!! কী জবাব দিবো বউকে??’

এর প্রায় এক ঘণ্টা পর আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, সন্তানের মৃত্যুর খবর তখনো তার স্ত্রীকে জানানো হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি রাতের ডিউটি থেকে অব্যাহতি এবং সন্তানের মরদেহ তার কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে সহায়তা কামনা করেন।

পরবর্তী পোস্টগুলোতে মেহেদি হাসান তার আর্থিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। চাকরিটি তার জীবনের জন্য অপরিহার্য হলেও সন্তান হারানোর শোকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান। একইসঙ্গে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও খুঁজছেন বলে লেখেন তিনি। সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার সন্তান আর পৃথিবীতে নেই- এই শোক আমি বহন করতে পারছি না।

ঘটনার পর ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলো নিয়ে ১২ ঘণ্টা আগে দেওয়া সর্বশেষ এক স্ট্যাটাসে মেহেদি হাসান বলেন, তিনি কখনোই তার বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাননি, কিংবা তার পোস্ট ভাইরাল হোক-এমনটাও প্রত্যাশা করেননি।
সন্তানের মুমূর্ষু অবস্থার সময় ডিউটি শেষে একা বাসায় থাকার মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দুই কন্যা সন্তানের পর পুত্র সন্তান হওয়ায় তাকে ঘিরে তার আবেগ ছিল প্রবল। সেই আবেগ থেকেই পোস্টগুলো দিয়েছেন।

তিনি আরও লেখেন, পোস্টগুলো ভাইরাল হওয়ায় একদিকে তিনি মানসিক চাপে পড়েছেন, অন্যদিকে শতশত ফোনকল ও বার্তার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে তার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে এবং আরও দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। স্ত্রীর সুস্থতার জন্য তিনি সবার দোয়া কামনা করেন এবং অনুরোধ জানান-অনুগ্রহ করে কেউ ফোন বা মেসেজ না করলে কৃতজ্ঞ থাকবেন।

জানা যায়, মেহেদি হাসান ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে কর্মরত। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়নের গোড়াগাঁও গ্রামে। তিনি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম ও কুকিলা বেগম দম্পতির চতুর্থ সন্তান।

এই ঘটনা দায়িত্ব ও মানবিকতার ভারসাম্য, এবং দায়িত্বশীল বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত সংকটে মানবিক বিবেচনার প্রশ্ন নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:০১:১০   ৪৯ বার পঠিত  |            







ময়মনসিংহ থেকে আরও...


ময়মনসিংহ-২ আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ, ব্যালট সংরক্ষণে আদালতের নির্দেশ
কলমাকান্দায় রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল
ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী
তারাকান্দায় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানিটারী ন্যাপকিন বিতরণ
কলমাকান্দায় মানবিক সহায়তা বাস্তবায়ন কমিটির সভা



আর্কাইভ