ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নেত্রকোনা: ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের অমলিন স্মারক- শহীদ মিনার। আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের মাতৃভাষা আর জাতীয় চেতনার প্রতীক এই পবিত্র স্থান। অথচ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর বাজারের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এখন প্রতি বৃহস্পতিবার পরিণত হচ্ছে সাপ্তাহিক হাটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ মিনারের সিঁড়ি, বেদি ও আশপাশ জুড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বাঁধাকপি, লাউ, কুমড়া, শাকসবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য। বস্তা নামানো-তোলা, ওজন মাপা, দরদাম আর কোলাহলে মুখর পুরো প্রাঙ্গণ। বাজার শেষে পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা-যা শহীদ মিনারের নান্দনিকতা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে।
আরও বিস্ময়কর বিষয়-অনেকে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে উঠছেন। স্থানীয়দের মতে, এটি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার চরম অবমাননা। তাদের ভাষায়, যে স্থানে শহীদরা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, সেখানে জুতা পরে ওঠা ও বাজার বসানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারির আগের দিন নামমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে ফুলের তোড়া, শ্রদ্ধার বক্তব্য, আলোকচিত্র-সবই থাকে। কিন্তু বছরের বাকি সময় পড়ে থাকে অবহেলা, অযত্ন আর বাজারের দখলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার কদর পায়, কিন্তু সারা বছর বাজার বসা ও নোংরার কারণে একুশের চেতনার সম্মান নষ্ট হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বৃহস্পতিবার এখানে হাট বসে। নির্দিষ্ট বাজারের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা মিনারের আশপাশে বসেন। তবে প্রশাসন বিকল্প স্থান নির্ধারণ করলে তারা সরে যেতে প্রস্তুত।
নাজিরপুর ইউনিয়ন প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে অবগত করা হবে।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান বলেন, কয়েক মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। সম্মানিত জায়গায় বাজার বসানোর বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
প্রশ্ন রয়ে যায়-আমরা কি শুধু একদিনের জন্য শহীদদের স্মরণ করি? একুশে ফেব্রুয়ারি এলে আবেগে ভেসে যাই, আর বছরের বাকি দিনগুলোতে তাদের স্মৃতিচিহ্নকে ছেড়ে দিই দখল আর অবহেলার হাতে?
শহীদ মিনার কোনো হাটের জায়গা নয়, এটি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক। একুশের চেতনা যদি সত্যিই হৃদয়ে ধারণ করি, তবে শ্রদ্ধা হোক প্রতিদিনের-শুধু একটি তারিখের নয়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:২১:১৯ ২১ বার পঠিত | ● কলমাকান্দা ● দখল ● মিনার ● শহীদ ● হাটের