ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঢাকা: দোহারে বিক্রিত জমির বাইরে অতিরিক্ত জমি দখল নিয়ে স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১১ মে সোমবার দুপুরে প্রবাসী লোকমান হোসেনের পরিবারের সদস্যরা তাদের জমির সিমানা চিহ্নিত করতে গেলে ইদ্রীস আলী ও মহর আলী গংয়ের লোকজনরা বাঁধা দেয় এবং হামলার ভয় দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।এমন ঘটনা ঘটেছে দোহার উপজেলার নুরপুর মৌজায়। দখলকৃত জমিটির বাজার মুল্যে ২০ লাখ টাকা। ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করেন, গত ৬ মাস ধরে সালিশ-বিচার করেও অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে জমি উদ্ধার করতে পারেনি।
ভুক্তভোগী প্রবাসী লোকমান হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, আমার স্বামী লোকমান হোসেন ২০২২ সালে জয়পাড়া নিবাসী মৃত ইন্তাজ মাদবরের ওয়ারিশ কামাল হোসেন গংদের নিকট হইতে একটি সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে এস. এ দাগ ১২, আর.এস দাগ-২৯৪, ৪ শতাংশ ও এস. এ দাগ-১৩ আর. এস ২৮২ নং দাগে ৪ শতাংশ মোট ৮ (আট) শতাংশ জমি ক্রয় করেন। অপর দিকে ইদ্রিস আলী গং আবুল হোসেন মাদবরের নিকট হইতে একই মৌজায় আরএস-২৯৪ দাগে ৫ শতাংশ ও ২৮২ দাগে ১ শতাংম জমি ক্রয় করেন।
ইদ্রিস আলী গং সেই ক্রয়কৃত জমির বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকা মৃল্যের জমি দখলে নিয়ে দোকান ঘর ( অবৈধ স্থাপনা) নির্মান করেছেন। আমার স্বামী লোকমান হোসেন প্রবাসে থাকায় ইদ্রীস গংদের বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও জবরদখল করে আমাদের মালিকানা জমিতে আধাপাকাঁ দোকান ঘর স্থাপনা নির্মান করেন। এই নিয়ে তিনি দোহার থানায় একাধিক অভিযোগ বা জিডি করি। এক পর্যায়ে স্থানীয় মাতব্বরের সাহায্য নিয়ে ৬ মাস ধরে স্থানীয় বিজ্ঞ সালিশির মাধ্যমে সালিশি বর্গ জমির মালিকানা কাগজ যাচাই-বাছাই শেষে দখলদার ইদ্রীস আলী গংদের অতিরিক্ত জমি ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানান। দখলদার ইদ্রিস আলী গং বিভিন্ন টালবাহানা করে প্রবাসীর সম্পত্তি ছেড়ে না দিয়ে সেখানে অবৈধ ও বে-আইনীভাবে দোকান ঘর নির্মান করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অপরদিকে গত গত ১১ মে সোমবার দুপুরে প্রবাসী লোকমান হোসেনের পরিবার জমির সিমানা চিহ্নিত করতে গেলে ইদ্রীস আলী ও মহর আলী গংয়ের লোকজনরা বাঁধা দেয় এবং হামলার ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী লোকমানের মা রহিমা বেগম জানান, প্রায় ৬ মাসের বেশী সময় ধরে ইদ্রীস আলী গং তাদের মালিকানা জমি দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মান করেছে। এই বিষয় নিয়ে দোহার থানায় একাধিক অভিযোগ ও জিডি করেও কোন সুরাহা পাইনি।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘ ৬মাস যাবৎ বিজ্ঞ সালিশি পক্ষ জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দখলদার ইদ্রীস আলী গংদের অতিরিক্ত জমি ছেড়ে দিতে বললেও ওরা কারো কথা শুনছেন না।
এ বিষয়ে সালিশি বোর্ডের সভাপতি মো.সামছু মোল্লা ও সালিশি পরিচালনাকারী মো.মালেক খাঁ জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় উভয়পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ ৬ মাসের বেশী সময় নিয়ে সমস্য সমাধানে এগিয়ে আসি। বিরোধকৃত জমিটির মালিকানা কাগজ যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিক লোকমান হোসেনের বরাবর জমিটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমরা সালিশি বর্গ ও গ্রাম বাসিদের মধ্যে জুড়ি বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত সালিশি বর্গের উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে অবৈধ দখলদার ইদ্রীস আলী গং বিভিন্ন টালবাহানা করে সময় অতিবাহিত করছেন। একপর্যায়ে জবরদখলের কথাও জাবতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইদ্রীস আলী ও মহর আলীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা জমি কিনেছি।দলিলও আছে, দখল এক জায়গা দিয়ে হলেই চলবে। বেশী জমি দখলে রেখেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানিয়ে মোবাইল ফোনের লাইনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেন নাই।
এ বিষয় দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ঘটনায় পুলিশের কোন মিমাংসার সুযোগ নেই। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মিমাংসা করলে ভালো। অন্যথায় ভুমি দখল ও পুনরুদ্ধার করতে আদালতের সরনাপন্ন হতে হবে। অভিযোগ প্রমান পাওয়া গেলে দখলদারের জেল ও জরিমানা বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি তাসফিক সিবগাত উল্লাহ জানান, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৮:৪৩ ১২৯ বার পঠিত | ● জমি দখলে ● দোহার