ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
শিরোনাম
ভেড়ামারায় লাইসেন্সবিহীন মৎস্য ও পশুখাদ্য বিক্রেতাকে জরিমানা ভেড়ামারায় অপরাধপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, জোরদার হচ্ছে নিরাপত্তা নবীগঞ্জে হাতুড়ে ডাক্তারে দাঁতের অপচিকিৎসায় কিশোরী মৃত্যু,এক লক্ষ টাকায় রফদফা পিরোজপুরের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মধ্যরাতে সাগরে নামছে জেলেরা আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা প্রদান করলেন ইউএনও নবীগঞ্জে কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতারের দাবি ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয় উদ্যোগ কাউখালীতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আলোচনা সভা সিংগাইরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা কাউখালীতে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ঢাকা » দোহারে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান

দোহারে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান


মাহবুবুর রহমান টিপু, ( দোহার )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


দোহারে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ঢাকা: দোহার উপজেলার জামালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে।
জানা যায়, ঢাকার দোহার উপজেলার ৮ নং জামালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রথম নির্মিত হয়েছিল ১৯৩৭ সালে। সেই দীর্ঘ ৮৯ বছর পাড় করে শিক্ষার আলো ছড়ানোর দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকছে জড়া-জীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার্থীর অভাবে।
এছাড়াও বিদ্যালয়টিতে ম্যানেজিং কোন কমিটি নেই। এক সময়ের মুখরিত এই বিদ্যাপীঠটি এখন যেন অবহেলা আর দুরবস্থার প্রতিচ্ছবি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন-১ এর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। জানা যায়, ২০০১ সালে নির্মিত ভবনটির দুটি কক্ষের প্লাস্টার এখন খসে পড়ছে। কক্ষের সামনের অংশে ভেন্টিলেটার অর্ধেক থাকলেও আর অর্ধেক নেই।
ছাদের কনক্রিট উঠে গিয়ে মরিচা ধরা রড বেরিয়ে এসেছে অনেক আগেই। কাঠের দরজাগুলোতে ধরেছে ঘুণ। যা যে-কোনো সময় ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় শিক্ষার্থীদের উপর। পুরোনো ভবনের দুটি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ২০১০ সালে পুনঃনির্মিত ভবন-২ এর মাত্র দুটি কক্ষে চলছে শ্রেণির পাঠদান। ভবন -১ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শ্রেনীকক্ষ স্বল্পতার কারণে, একটি কক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকগণ অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আরেকটি কক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা রওশনারা বেগম জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ১২৪ জনে।
এরমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ১৮ জন, প্রথম শ্রেণি ১১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণি ২৩ জন, তৃতীয় শ্রেণি ২৫ জন, চতুর্থ শ্রেণি ৩৩ জন, পঞ্চম শ্রেণি ১৪ জন।
শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, স্থানীয় অভিভাবকরা এখন সরকারি এই জীর্ণ বিদ্যাপীঠের চেয়ে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থাপনা বেহাল দশায় রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিতে বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, এই বিদ্যালয়টি একসময় এমন ছিল না। ছাত্র-ছাত্রীদের কোলাহলে সব সময় থাকতো মুখরিত। ২০১০ সালেও এখান থেকে ২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়া এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে বিদ্যালয়টি তার পুরোনো ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শ্রেনীকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাদের সন্তানদের এখানে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দা লিপন খান জানান, ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত একটি বহুতল নতুন ও আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।
অভিভাবক মোহাম্মদ জামাল-এর মতে, একটি বহুতল নতুন এবং আধুনিক ভবন নির্মাণসহ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে।

বিদ্যালয়টির দেখভালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ বর্তমানে শেষ হয়ে গেছে। তবে প্রধান শিক্ষিকা রওশন আরা বেগম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতি শীঘ্রই নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হবে। যা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
দোহার উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নায়েব আলী জানান, এর আগে গত ২ মে, ২০২৬ ইং তারিখে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট দাখিল করেন উর্ধত্বন কতৃপক্ষের নিকট।সেখানে ভবন -১এর জরাজীর্ণ অবস্থা ও ব্যবহার অযোগ্য ঘোষণা করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।বর্তমানে ভবন-২ এর দুইটি কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলমান আছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা পারভীন জানান, দোহার উপজেলা প্রকৌশলীকে নতুন ভবনের জন্য ডকুমেন্ট পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তিনি কামনা করছেন। তিনি আরও জানান, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সত্য, তবে ৪ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি রয়েছে।পূর্ণাঙ্গ কমিটি অতিশীঘ্র তা গঠন করা হবে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা প্রকৌশলী এম এ রাজু আহমেদ জানান,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠিয়েছেন, যেন দ্রুত এই জীর্ণ ভবনটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২১:১০   ৫ বার পঠিত  |      

----





ঢাকা থেকে আরও...


আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা প্রদান করলেন ইউএনও
সিংগাইরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা
সালথায় রক্তপাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে, অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিল প্রশাসন
আলফাডাঙ্গায় ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণ
দোহারে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান



আর্কাইভ