ঢাকা    বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
• ছয় সন্তানের অবহেলায় গাছতলায় আশ্রয় ৯৫ বছরের শামসুলের • কুমিল্লায় ভাঙতি টাকা নিয়ে বিরোধ,অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা • মুড়ির প্যাকেটে বিস্ফোরণ, খুলনায় জামায়াত নেতা দগ্ধ • চিকিৎসক থেকে মঞ্চের সেরা, ‘মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার’ হলেন ছোঁয়া • ১৫ বছর ধরে মিমির পাশে থাকা সেই মানুষটি কে? • পাবনায় ছাত্রীনিবাসের কক্ষ থেকে কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার • বালুর স্তূপে কান্নার শব্দ, জীবিত নবজাতক উদ্ধার • ১২ বছর ঘরবন্দি সামিম, চিকিৎসার অভাবে থমকে জীবন • মিঠাপুকুরে অটোরিকশায় ঘুমন্ত চালকের মৃত্যু, ডেকেও মেলেনি সাড়া • নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৯ পুলিশসহ ১১ জন


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » খুলনা » পদ্মা নদীতে স্পিডবোটের ট্রায়ালে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলি, গুলিবিদ্ধ ৪

পদ্মা নদীতে স্পিডবোটের ট্রায়ালে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলি, গুলিবিদ্ধ ৪


মাহমুদুল হাসান চন্দন, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬


 পদ্মা নদীতে স্পিডবোটের ট্রায়ালে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলি, গুলিবিদ্ধ ৪

পাবনা: পদ্মা নদীতে গভীর রাতে নতুন মেরামত করা স্পিডবোটের ট্রায়াল (পরীক্ষামূলক চালনা) দেওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছেন মনি পার্ক-এর স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম মনি ও তাঁর সহযোগীরা। গত ৩১ তারিখ শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় মনিরুল ইসলাম মনিসহ মোট চারজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ববি নামের এক সহযোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‎এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে জনমনে এক তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার প্রায় মাসখানেক আগে চট্টগ্রাম থেকে একটি লাইভ বোট (স্পিডবোট) কিনে আনেন মনি পার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনি। বোটটি অচল থাকায় তা মেরামতের জন্য চট্টগ্রাম থেকে একজন ইঞ্জিনিয়ার ও মিস্ত্রি আনা হয়। টানা ৪দিন মেরামতের পর বোটটি সচল হলে গত ৩০ তারিখ রাতে তা মনিকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানান টেকনিশিয়ানরা।

‎রাত ৯টা থেকে ১০টার দিকে মনিরুল ইসলাম মনি পার্কের ঘাটে পৌঁছান এবং টেকনিশিয়ানদের সাথে নিয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দিকে বোটটি চালিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। প্রাথমিক ট্রায়াল শেষে রাত ১টার ট্রেনে চট্টগ্রামের টেকনিশিয়ানরা বিদায় নেওয়ার সময় ইঞ্জিন গরম হয় কিনা বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয় কিনা, তা নিশ্চিত হতে বোটটি আরও ২-৩ ঘণ্টা চালিয়ে দেখার পরামর্শ দেন।

‎টেকনিশিয়ানদের বিদায় দিয়ে রাত ৩টার দিকে মনিরুল ইসলাম মনি নিজে চালকের আসনে বসে সহযোগী শরিফুল ইসলাম ববি, পার্কের গ্যারেজ মিস্ত্রি রেজা এবং নাইট গার্ড বাদশাকে সাথে নিয়ে নদীপথে ১ থেকে ১.৫ কিলোমিটার পথ এগিয়ে যান। ঠিক এই সময়ে অন্ধকারে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে বোটের দিকে সার্চলাইটের আলো ফেলে এবং পথরোধ করার চেষ্টা করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা বোট লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।

‎পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুল ইসলাম মনি দ্রুত বোট ঘুরিয়ে পার্কের ঘাটের দিকে ফিরে আসতে থাকেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা পিছু ধাওয়া করে একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে নদীর ইলেকট্রিক পোলের কাছে পৌঁছালে জীবন বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষার্থে মনিরুল ইসলাম মনি তাঁর লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পাল্টা ২ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। মনির পাল্টা গুলির মুখে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

‎সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার পর বোটটি মনি পার্কের ঘাটে এসে পৌঁছালে দেখা যায়, শরিফুল ইসলাম ববির শরীর বেয়ে রক্ত ঝরছে এবং তিনি গুরুতর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া মনিরুল ইসলাম মনি, রেজা এবং বাদশার শরীরেও গুলির হালকা আঘাত লাগে। মনি দ্রুত তাঁর নিজস্ব গাড়িতে করে ববিকে প্রথমে ভেড়ামারা সরকারি হাসপাতাল এবং পরে কুষ্টিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাতেই তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ববি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

‎এই ঘটনা প্রসঙ্গে গুলিবিদ্ধ শরিফুল ইসলাম ববি ঢাকা থেকে জানান, সন্ত্রাসীরা আমাদের জিম্মি করার উদ্দেশ্যে গতিরোধ করে গুলি চালিয়েছিল। এমডি (মনি) সাহেব নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে পাল্টা গুলি না চালালে আমাদের হয়তো জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো না। একই সাথে এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়ানো মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ববি বলেন, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, সুস্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নদীপথে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই দুর্ধর্ষ হামলার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এন/এন

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৮:১৩   ১৬৭ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●







খুলনা থেকে আরও...


● মুড়ির প্যাকেটে বিস্ফোরণ, খুলনায় জামায়াত নেতা দগ্ধ
● মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ভেড়ামারায় দুই দোকানকে জরিমানা
● সুন্দরবনে শিকারিদের ফাঁদ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই হরিণ
● ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজে বরণ করে নেওয়া হলো নবীন শিক্ষার্থীদের
● মাকে হত্যার মামলার আসামি শিক্ষকপুত্রের কারা হেফাজতে মৃত্যু



আর্কাইভ