ঢাকা    শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » পটুয়াখালী-দশমিনা সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

পটুয়াখালী-দশমিনা সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পটুয়াখালী-দশমিনা সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

পটুয়াখালী: জেলা শহর থেকে লোহালিয়া সেতু হয়ে দশমিনা ও বাউফল উপজেলায় যাতায়াতের প্রধান সড়কটি কয়েক বছর ধরে খানাখন্দে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহনকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে কবে নাগাদ এই ভোগান্তির অবসান হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই বড় যে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভ্যানচালকদের অনেক সময় ভ্যানে বসে চলাচলের পরিবর্তে পায়ে হেঁটে ভ্যান টেনে নিতে হচ্ছে।
একসময় রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করলেও বর্তমানে বেহাল সড়কের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এমনকি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলোও এই সড়ক এড়িয়ে বাড়তি পথ ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে পটুয়াখালী থেকে দশমিনা যাতায়াতের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে সময় ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে দুই উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এদিকে সড়কের বেহাল পরিস্থিতি থেকে সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় বড় গর্তে ইট দিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় পুরো সড়কের সংস্কারকাজ এখনই শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত বড় গর্তগুলোতে ইট দিয়ে সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে সদর উপজেলার লোহালিয়া, ভুড়িয়া, কমলাপুর হয়ে বাউফল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কালাইয়া বন্দরে যাতায়াতের অন্যতম সহজ পথ এই সড়ক। একই সঙ্গে সড়কটি স্থানীয় মৎস্য ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও উন্নয়ন করা হলে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:২৪:৩৭   ৮ বার পঠিত  |         







বরিশাল থেকে আরও...


দুমকিতে ব্যবসায়ীর বসতঘরে গভীর রাতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ
পটুয়াখালী-দশমিনা সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পর্যটকবাহী বাস
তেঁতুলিয়ার অব্যাহত ভাঙ্গন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের ও সেতুর দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
কাঁঠালিয়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে ঘাতক স্ত্রী লিজা গ্রেফতার



আর্কাইভ