ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে পোস্ট মাস্টার না থাকায় পোস্টম্যানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাঁকে পোস্টম্যানের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে গত ১২ দিন ধরে টাকা জমা ও উত্তোলন বন্ধ থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে টাকা জমা রাখতে ও তুলতে না পেরে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকেরা।
জানা গেছে, আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার মো. রাশেদ হাসান গত ৩০ সেপ্টেম্বর পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে অন্যত্র চাকরিতে যোগ দেন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা সদর পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান (চিঠি বিতরণকারী) মো. মহিউদ্দিনকে পোস্ট মাস্টারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে পোস্টম্যানের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। এ সময়ে পোস্ট অফিসের অনেক আমানতকারী তাঁদের গচ্ছিত টাকা তুলতে ও জমা রাখতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বর্তমানে পোস্ট মাস্টারের দায়িত্বে থাকা মো. মহিউদ্দিন চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ অন্যান্য সেবা দিয়ে আসছেন। তবে গত ১২ দিন ধরে তিনি আমানতকারীদের সাধারণ ও মেয়াদি হিসাবের লেনদেন বন্ধ রেখেছেন। ফলে গ্রাহকেরা টাকা জমা দিতে পারছেন না, আবার নিজেদের জমা টাকাও তুলতে পারছেন না।
সরেজমিনে গতকাল সোমবার দেখা যায়, পোস্ট মাস্টারের দায়িত্বে থাকা মো. মহিউদ্দিন কিছু সময় অফিসের কাজ করার পর নিজেই উপজেলা সদরে চিঠিপত্র বিতরণ করতে বেরিয়ে যান। উপজেলা সদরের সরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, থানা, আগৈলঝাড়া বাজারসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে চিঠি পৌঁছে দিতে তাঁর প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময় সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীরা জরুরি প্রয়োজনে পোস্ট অফিসে এসে তাঁকে না পেয়ে সেবা নিতে পারছেন না। অফিসে থাকা মেইল ক্যারিয়ার কাম প্যাকার এনায়েত হোসেন ও নৈশপ্রহরী মো. শাহ আলম গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পোস্ট মাস্টারের অনুপস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।
আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে পোস্ট মাস্টারসহ ছয়টি পদ শূন্য থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে টাকা তুলতে না পেরে সাধারণ গ্রাহকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সমস্যায় পড়েছেন। এমনকি একাধিকবার পোস্ট অফিসে এসেও গ্রাহকেরা জীবনবিমার মাসিক কিস্তি জমা দিতে পারছেন না।
সূত্র জানায়, উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে পোস্ট মাস্টার একজন, পোস্টাল অপারেটর দুজন, পোস্টম্যান দুজন, রানার দুজন, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার একজন, নৈশপ্রহরী একজন ও ঝাড়ুদার একজনসহ মোট ১০টি পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেখানে একজন পোস্টম্যান, একজন প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার, একজন রানার ও একজন নৈশপ্রহরীসহ চারটি পদে কর্মী রয়েছেন। বাকি ছয়টি পদ শূন্য। এ কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসের এক আমানতকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে নিজের জমানো টাকা তুলতে এসে পোস্ট মাস্টার না থাকায় সময়মতো তা তুলতে পারছেন না।
পোস্ট মাস্টারের দায়িত্বে থাকা পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, “৩০ সেপ্টেম্বর পোস্ট মাস্টার চলে যাওয়ার পর আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি পোস্ট মাস্টারের কাজ ভালো বুঝি না। আর টাকা-পয়সার ব্যাপার, তাই ভয়ে দায়িত্ব নিতেও চাচ্ছি না।”
এ বিষয়ে বরিশালের পোস্ট অফিস পরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন বলেন, আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসে সঞ্চয়সংক্রান্ত অনেক কাজ রয়েছে। পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিন পোস্ট মাস্টারের দায়িত্ব ভালোভাবে বোঝেন না, তাই তাঁকে দিয়ে এসব কাজ করানো সম্ভব নয়। উপজেলা পোস্ট মাস্টার চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল পোস্ট মাস্টার ডেপুটি জেনারেল নাঈম ইবনে রহমানের নম্বরে একাধিকবার ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৫:১১ ২৯ বার পঠিত | ● আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিস ● টাকা জমা-উত্তোলন বন্ধ ● পোস্ট মাস্টার সংকট ● বরিশাল ডাক বিভাগ