ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। কেন্দ্রটির একমাত্র মেডিকেল অফিসার ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন ২০২২ সাল থেকে টানা চার বছর ধরে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে এলাকার বাসিন্দারা সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর চিকিৎসক না থাকায় কেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন আসা শত শত রোগী হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, একজন চিকিৎসকের খামখেয়ালিপনা ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে তাঁরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।
এলাকার বাসিন্দা গোলজার হোসেন, খোরশেদ মিয়া ও আল আমিন ভূইয়া জানান, একজন চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে যেন স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য দ্রুত বিকল্প চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। তবে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া বা জবাব পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ চার বছর ধরে এ অচলাবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখনো ওই পদে বিকল্প কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, হাসপাতাল থেকে ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়নের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁকে একাধিকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই চিকিৎসক বেতনও নিচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২১:০০:০৯ ১৪ বার পঠিত | ● আড়াইহাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ● আড়াইহাজারে চিকিৎসাসেবা ● ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন