ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফলে পল্লী বিদ্যুতের বিল নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ বাড়ছে। একই বিল একাধিকবার ইস্যু, পরিশোধিত বিল পুনরায় যুক্ত করা, বহু বছর আগের বকেয়া বর্তমান বিলের সঙ্গে যোগ করা এবং অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের দাবি, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ বা তারও বেশি বিল আসছে। এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন গ্রাহক।
গ্রাহকদের ভাষ্য, বিলের অসংগতির কারণে তারা আর্থিক চাপ ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন। বিশেষ করে বহু বছর আগের বিল হঠাৎ বর্তমান বিলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিলিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকদের পরিশোধের তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফলের একটি ছ-মিলে প্রায় চার মাস আগে নতুন বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই মিলের আগের তিন মাসের জন্য প্রায় ২৫ হাজার টাকার বিল ইস্যু করা হয়। মিলটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকায় বিলের পরিমাণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মালিক আবু হানিফ।
আবু হানিফ জানান, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাকে বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের পর বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হয় বলে তার দাবি। এ সময় নির্ধারিত হিসাবের চেয়ে প্রায় ৬০০ ইউনিট অতিরিক্ত গণনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তাকে জানান। ভুল সংশোধন করে পরবর্তী মাসের বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয়ের আশ্বাসও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নাঈম তালুকদার নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের আগস্টে তার বাসার বিদ্যুৎ বিল আসে ৪২০ টাকা। এর সঙ্গে ২০১৯ সালের নভেম্বরের ৫৫৭ টাকার একটি বিল যুক্ত করে মোট ৬১৫ টাকার বিল ইস্যু করা হয়। তার দাবি, পুরোনো ওই বিল আগেই পরিশোধ করেছিলেন তিনি। পরিশোধের প্রমাণ খুঁজে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাকে ৪২০ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।
নাঈমের প্রশ্ন, পুরোনো বিল পরিশোধের রসিদ খুঁজে না পেলে তাকে কি একই বিলের টাকা আবার দিতে হতো? তার মতে, গ্রাহকের পরিশোধ করা অর্থের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কামরুল হাসান নামের আরেক গ্রাহক জানান, ২০২১ সাল থেকে তিনি একটি ভাড়া দোকানে ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি তার দোকানের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ২০১৬ সালের ৫ হাজার ৯০০ টাকার একটি পুরোনো বিল যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কামরুলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাকে ওই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়। অন্যথায় মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও বলা হয়। এ বিষয়ে বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) কাছে মৌখিক অভিযোগ জানালে পুরো টাকা পরিশোধের কথা বলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। কর্মকর্তার আচরণকে হুমকিমূলক বলেও উল্লেখ করেন কামরুল।
জিএম মশিউর রহমান মিলন নামের এক গ্রাহকের অভিযোগ, তার বসতবাড়ির একই মিটারের বিপরীতে এক মাসে দুটি বিল ইস্যু করা হয়েছিল। শুরুতে আলাদা করে যাচাই না করেই বিল দুটি পরিশোধ করেন তিনি। পরে হিসাব মিলিয়ে দেখেন, একই বিল দুবার ইস্যু করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে পরবর্তী মাসের বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সমন্বয় করা হয়নি বলে অভিযোগ তার। এদিকে, মেহেদি হাসান নামের এক গ্রাহকের দাবি, ডিজিটাল মিটার চালুর পর থেকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এ ধরনের সমস্যা বেশি চোখে পড়ছে।
পল্লী বিদ্যুতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাউফল উপজেলায় মোট গ্রাহক ৭৫ হাজার ৩৯ জন। উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ থেকে ২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হচ্ছে সাড়ে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মেগাওয়াট। ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহকের বিল আগের তুলনায় বেশি আসার কারণ জানতে চান ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের ডিজিএম আজিজুল ইসলাম বলেন, অনুমতি ছাড়া তারা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন না। কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জবাব দেওয়া হবে।
কোনো বিলে ভুল থাকলে তা সংশোধন করে সঠিক বিল দেওয়ার কথা। বিল নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিলের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবুল কাশেমের কাছে অতিরিক্ত বিলের অর্থ কোথায় যায়, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ভুলবশত অতিরিক্ত বিল করা হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ গ্রাহকের হিসাবে জমা থাকার কথা। তবে ২০১৬ সালের বিল ২০২৬ সালের অক্টোবরে বর্তমান বিলের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলো, তা নথিপত্র যাচাই ছাড়া বলা সম্ভব নয়। কোনো গ্রাহকের বিল নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের প্রতিটি খাত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা, পরিশোধিত বিল পুনরায় যুক্ত হওয়া বন্ধ করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি বিলে ভুল পাওয়া গেলে দ্রুত সংশোধন ও অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৩:২২ ১২ বার পঠিত | ● পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ ● পরিশোধিত বিল পুনরায় যুক্ত ● বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ বিল ● বিদ্যুৎ বিলের অনিয়ম