ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » আমতলীর পায়রা নদীতে অবৈধ চরগড়া জালে মাছ নিধন

আমতলীর পায়রা নদীতে অবৈধ চরগড়া জালে মাছ নিধন


জাকির হোসেন,আমতলী (বরগুনা)
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫


আমতলীর পায়রা নদীতে অবৈধ চরগড়া জালে মাছ নিধন

বরগুনা: আমতলীর পায়রা নদীর ৫২ কিলোমিটার এলাকা জুরে জেলেদের পাতা ছোট ফাসের শত শত অবৈধ চরগড়া জালে মাছের সর্বনাশ ঘটছে। একদিকে মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত পায়রা নদী এখন মাছ শূন্য হচ্ছে অন্যদিকে চরগড়া জাল পাতার জন্য তালতলীর সংরক্ষিত টেংরাগিরি ও গুলিশাখালীর সরকারী ছৈলার চরের বনাঞ্চলের গাছ কেটে ব্যবহার করায় উজার হচ্ছে বন।

আমতলীর পায়রা নদীটি তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি বনাঞ্চল থেকে শুরু হয়ে পটুয়াখালীর পায়রা কুঞ্জ পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুরে বিস্তৃত। নদীর দুই পারে রয়েছে হাজার হাজার জেলে পরিবারের বসবাস। পায়রা নদীর উপর নির্ভর করে চলে এদের জীবন জীবিকা।

পায়রা নদীতে মৎস্য বিভাগের অভিযানের মধ্যেও তাদের চোখ ফাকি দিয়ে এক শ্রেণির অসাধু জেলে দিনে রাতে ছোট ফাসের অবৈধ চরগড়া জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ শিকার করায় পায়রা নদী এখন মাছ শূন্য হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে এই অসাধু জেলেরা চরগড়া জাল পাতার খুটির জন্য উজার করছে গুলিশাখালীর পায়রা বুকে জেগে ওঠা ছৈলার চর ও টেংরাগিরি বনের গাছ।

এর সাথে জড়িত রয়েছে বনবিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মচারীরা। তালতলী উপজেলার সংরক্ষিত টেংরাগিরি বনাঞ্চলের বনরক্ষী জহিরুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে বনের গাছ কাটতে দেওয়া এবং বনসংলগ্ন নদীতে অবৈধ চরগড়া জাল দিয়ে মাছ শিকারে সহায়তা করারও অভিযোগ রয়েছে। তবে জহিরুল হক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টেংরাগিরি বনাঞ্চলটি সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল। বনটি বরগুনার তালতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বনাঞ্চলের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্বাসমূলীয় বন স্থানীয়ভাবে ফাতরার বন নামে পরিচিত। অন্যদিকে গুলিশাখালী বাজারের নিকটবর্তী পায়রা নদীতে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুরে নতুন ভাবে একটি চর জেগে ওঠায় সেখানেও প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠেছে একটি ছৈলার বন। জেলেরা চরগড়া জাল পাতার খুটির জন্য এই বনের গাছ কেটেও অবাধে সাবার করছে।
পায়রা নদীর গুলিশাখালী, আঙ্গুলকাটা, বৈঠাকাটা, লোছা, বালিয়াতলী লোছাসহ নলবুনিয়া, টেংরাগিড়িসহ কয়েটি স্থান সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে শত শত চরগড়া জাল দিয়ে জেলেরা মাছ শিকার করছে।

গুলিশাখালীর চর ঘুরে দেখা গেছে, জেগে ওঠা নতুন চরসহ অন্তত ২০-২৫টি স্থানে ছোট ফাসের অবৈধ চরগড়া জাল দিয়ে জেলেরা মাছ শিকার করছে। চরগড়া জাল সাধারনত ৩-৪শ’ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। ভাটার সময় জেলেরা নদীর পারে মাটিতে এ জাল পুতে রাখে জোয়ার শেষ হওয়ার সাথে সাথে জাল পানির উপর তুলে খুটিতে বেধে রাখে। ভাটার সময় পানি নেমে যাওয়ার পর জালের ভেতরে আটকে পরা মাছ শিকার করে। এ জাল ছোট ফাসের হওয়ায় আইড়, পোয়া, তপসী, ইলিশসহ নানা প্রজাতির পোনা মাছও মারা যাচ্ছে অবাধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলিশাখালীর এক জেলে বলেন, গুলিশাখালীর জেলে নুরুল ইসলাম, ইউসুব প্যাদা, আবুল হোসেন, ইব্রাহিম প্যাদাসহ অর্ধশতাধিক জেলে রাতের আধারে এবং খুব ভোরে চরগড়া জাল পেতে মাছ শিকার করছে।
নলবুনিয়া ও টেংরাগিড়ির চরাঞ্চলঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। সেখানে শত শত জেলেরা অবাধে চরগড়া জাল দিয়ে পায়রা নদীর সাগরের মোহনায় মাছ শিকার করছে। এসকল মাছ শিকারের জন্য খুটি হিসেবে ব্যবহার করছে বনের গাছ।
বনবিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, বনের গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি আমাদেও কোন লোক জড়িত থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, গুলিশাখালীর ছৈলার চরটি নদীর মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় সব সময় যোগাযোগ করা যায় না। গাছকাটার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, ছোট ফাসের অবৈধ চরগড়া জালের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এলাকায় সোর্স লাগানো আছে। এই জাল পাতার খবর পাওয়া মাত্র আমারা সেখানে অভিযান পরিচালনা করবো।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস বলেন, পায়রা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে অনেক অবৈধ চর গড়া জাল আটক করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অবৈধ এ জালের বিরুদ্ধে আমাদেও অভিযান অব্যাহত আছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৪:৩৩   ২০১ বার পঠিত  |            







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ