ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ময়মনসিংহ: ঈশ্বরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অসচ্ছল পরিবারের বাড়িতে গিয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের আত্মচিৎকার শুনে তাদের বাঁচাতে ছুটে আসেন প্রতিবেশী দুই ভাই এমদাদুল হক (৪৫) ও এহসানুল হক (৩২)। অসহায় পরিবারটিকে বাঁচাতে আসায় হামলাকারীরা দুই ভাইকে বেধড়ক পিটুনি শুরু করে প্রতিপক্ষরা। ভাইদের চিৎকার শুনে অপর তিন ভাই মো. নুরুল হক, মঞ্জুরুল হক ও জিয়াউল হক এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বেদম মারধর করে গুরুত্বর জখম করে হামলাকারীরা।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামে গিয়ে এ তথ্য জানা যায়। গ্রামের আব্দুল লতিফের বাড়িতে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার লতিফের স্ত্রী রাহিমা খাতুন (৪৫) বলেন, ‘আমরার লগে প্রতিবেশী আবুল কাশেম ও তার ছেলেদের জমি লইয়্যা বিরোধ চলতাছে। গত শুক্রবার কাশেম ও তার ৪ ছেলেসহ ভাড়াটিয়া লোকজন লইয়্যা আমরার বাড়িত আইয়্যা হামলা ও ভাঙচুর করে। তখন আমার স্বামী আর ছেলেদের জীবনে শেষ করে দিতো। আমরা জীবন বাঁচানোর জন্য চিৎকার শুরু করলে পাশের বাড়ির লোকজন আমদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে তাদেরকেও মারধর করে।
গত শুক্রবারের এ ঘটনায় প্রতিবেশীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে একই পরিবারের চার ভাই আহত হন। এসময় এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে এমদাদুল হকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে ঘটনারদিনেই আহত মো. এহসানুল হক (৩২) বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, মো. আবুল কাশেম (৫৫) ও তার চার ছেলে জাকারিয়া ওরফে আঙ্গুর মিয়া (৩০), আলামিন (২৫), রুহুল আমিন (২০), মোস্তাকিম (২৮) এবং কাশেমের স্ত্রী ফুলবানু (৫২)।
অভিযুক্তদের বিচার চেয়ে আহত নূরুল হক বলেন, প্রতিবেশী লতিফ সাহেবের বাড়িতে হামলার চিৎকার শুনে আমরা চারজন বাঁচাতে আসলে আমাদের উপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় কাশেম বাহিনী। এতে আমার বড় ভাই এমদাদুল হকের অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে থানার অভিযোগে উল্লিখিত দুই নম্বর আসামি মো. জাকারিয়া ওরফে আঙ্গুর মিয়া (৩০) বলেন, প্রতিবেশী লতিফ মিয়াকে বাঁচাতে আসায় আমরা তাদের ওপর হামলা করেছি বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং এমদাদুল হক ও তার ভাইয়েরা প্রথমে আমাদের পরিবারের লোকজনকে মারধর করে, পরে আমরাও তাদের ছাড় দেইনি।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একজন অফিসারকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আফ/আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৫:১৩ ১৩১ বার পঠিত | ● আহত ● ঈশ্বরগঞ্জে ● মারধর ● ময়মনসিংহ