ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ময়মনসিংহ: রনির বড়ভাই পলাশ থাকেন সৌদি আরবে। রনিকেও সেখানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই খুশিতে আকিজ কোম্পানির চাকরিটি ছেড়ে দেয় সে। কয়েক মাস আগে পাসপোর্ট করার পর ভিসা প্রসেসিংসহ অন্যান্য কার্যক্রমও সম্পন্ন। কিন্তু রনির সেই ইচ্ছেপূরণ আর হলো না। রোববার রাতে নিখোঁজের পর সোমবার সকালে তার ক্ষতবিক্ষত লাশের দেখা মিলে বাড়ির অদূরে একটি ইটভাটার পাশে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে হরিরামপুর ইউনিয়নের মাগুরজোড়া গ্রামে।
জানা গেছে, উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের মাগুরজোড়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম সৌদিপ্রবাসী। বাবার চিকিৎসা ও একটি এনজিও’র কিস্তি পরিশোধের রোববার ছোট ভাই হাফিজুল ইসলাম রনি (২৩)র বিকাশে টাকা পাঠান। সোমবার সকালেই কিস্তির টাকা নিতে আসবে এনজিওকর্মী। তাই রাতেই স্থানীয় কানারঘাট মোড়ের একটি বিকাশের দোকানে যান আব্দুল কাদির ও তার ছোট ছেলে রনি। ২৫ হাজার টাকা তুলে বাবার হাতে দেয় রনি। এরপর তাকে বাড়ি চলে যেতে বলে বাবা কাদির বাড়ি ফিরেন একটু দেরিতে। রনি হয়তো তার রুমে ঘুমাচ্ছে এই ভেবে, বাবাও ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে তাকে রুমে না পেয়ে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। কাকী সাবিনা ইয়াসমিন তার মোবাইলে কল দিলে দুইবার রিং হয়, এরপর নম্বরটি বন্ধ দেখায়।
সকাল দশটার দিকে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পান, বাড়ির দুইশ গজ দুরে এমএসবি নামক একটি ইটভাটার পাশে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। মুখ মাথা ইট দিয়ে থেতলানো। সেখানে ছুটে যান পরিবারের সদস্যরা, বাবা নিজেই সনাক্ত করেন এটা তার ছেলে রনির লাশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ত্রিশাল থানা পুলিশ। দুপুর একটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম। পরে আলমত সংগ্রহ করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় ত্রিশাল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
দুপুর দুইটার দিকে রনির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা হাসিনা খাতুন অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে মাটিতে। রনির দুই বোন ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। বাবা কাদির পাগলের মতো এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে।
রনির কাকীমা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সকাল ৯টার দিকে মোবাইলে কল দিলে দুইবার রিং হয়, কিন্তু এরপরই নম্বরটি বন্ধ দেখায়। তার বিকাশে থাকা টাকার লোভে তার বন্ধুরা এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তার বন্ধুদের অনেকেই এলাকা থেকে গাঁ-ঢাকা দিয়েছে।
বাবা আব্দুল কাদির বলেন, জলজ্যান্ত পোলাডারে পাডাইলাম বাড়িত, ফিরলো লাশ অইয়্যা। আমার বাজানের পাসপোর্ট ভিসা সব ঠিক, তার আর বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছটা পূরণ অইলো নারে বাবা।
ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, নিহতের মাথার পেছনের দিকে ও কপালে ইটের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ০:২০:৪০ ১১৫ বার পঠিত | ● ত্রিশাল ● মরদেহ ● যুবক