ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: আগৈলঝাড়ায় কবরে একমাত্র ছেলের স্মৃতি খুজে ফেরেন সাগরের মা। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেড়াতে জীবিকার তাগিদে কিশোর বয়সে ঢাকায় গিয়ে ছিলেন সাগর। স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবা মা বোনকে নিয়ে সুন্দর একটা পরিবারের। সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল সাগরের। ২৪ এর জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রানটাই চলে যায় সাগরের। তাইতো মৃত্যুর এক বছর পেড়িয়ে গেলেও সন্তান হাড়ানোর বেদনা এখনো ভুলতে পারছেনা তার পরিবার। সন্তানের কথা মনে করে মাঝরাতে কবরের পাসে ছুটে যাওয়াই যেন এখন জীবনের নিয়মে পরিনত হয়েছে সাগরের মা আম্বিয়া বেগমের। কখনো আবার ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে সারা রাত কাঁদেন নিঃশব্দে।
সাগরের মায়ের একটাই দাবি যারা তার একমাত্র ছেলেকে মেরেছে তাদের বিচার দেখে মরতে চান। সাগরের বাবা নুরুল হক হাওলাদার পেশায় একজন নৈশ প্রহরী। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনিও বাকরুদ্ধ। শোক আর ক্ষোভে ভেঙেপরা এক মানুষ। বাড়ীতে কেউ গেলে তাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদেন। তিনি মানসিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পরেছে। কিছুতেই তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাতে পারছেনা পরিবার। ভাইয়ের শূন্যতা আর ভালবাসার অভাব অনুভব করেছে একমাত্র ছোট বোন মরিয়ম খানম। সেই শূন্যতা নির্বাক করে দিয়েছে তাকে।
পঁচাত্তর বছর বয়সী সাগরের দাদা মজিদ হাওলাদার নাতিকে হাড়িয়ে যেন সর্ব শক্তি হাড়িয়ে ফেলেছে। একমাত্র নাতী সাগরকে হারিয়ে তিনি আরো বেশী অসুস্থ্য হয়ে পরেছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার কোন আনন্দ ছিল না তাদের পরিবারে। ছিল শুধুই কান্না আর হাহাকার।
সম্প্রতি সাগরের পিতা নুরুল হক স্ত্রী আম্বিয়া বেগমকে নিয়ে ঢাকায় ছেলের গুলিবৃদ্ধের ঘটনাস্থল ধানমন্ডি আবাহনী ক্লাবের কর্নারে পুলিশ বক্সের কাছে নিয়ে যান। এসময় স্থানীয়রা সাগরের পিতা মাতাকে জানান যে স্থানে সাগর গুলিবৃদ্ধ হয়েছিলেন সেখানে পিচঢালা পথ সাগরের রক্তের দাগ দুই সপ্তাহের মত ছিল। স্থানীয়দের একথা শুনে সাগরের পিতা মাতা দুজনেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে উপজেলার বাগধা গ্রামে সাগরের বাড়ীতে গেলে শহীদ সাগরের চাচা মইনুল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে সাগর ঢাকায় গিয়েছিল, ওর স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে বেশি টাকা আয় করে বাড়িতে পাকা ভবন তৈরি করবে, ওই ভবনে সবার জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে ও বোনের লেখাপড়াসহ মায়ের জন্য কাজের লোক রেখে দেবে। সাগরের স্বপ্ন দূঃস্বপ্নে রুপ নিল। সরকার আমাদের সাগরকে এনে দিতে পারবে না, শুধু তারা সাহায্য সহযোগীতা করতে পারবে।
যারা আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। সাগর নিহতের এক বছর হয়ে গেলেও আমাদের পরিবারের কারোরই কান্না থামছে না। আজ ২৪ জুলাই শহীদ সাগর হাওলাদারের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তার নিজ বাড়ীতে বাদ যোহর পারিবারিক ভাবে দোয়া মিলাদ ও স্মরন সভা অনুষ্ঠিত হবে।
জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর দুই মাস পূর্বে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা গ্রামের সাগর হাওলাদার (১৭) সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা ও বোনের লেখাপড়া খরচ যোগাতে ঢাকায় যায়, সে ধানমন্ডি লেকপাড় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতো। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আবাহনী মাঠের কর্নারে পুলিশ বক্সের কাছে দু-পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে দুপায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জুলাই মৃত্যুবরন করেন সাগর হাওলাদার। সাগরের পিতা নুরুল হক হাওলাদার বাগধা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী, তার এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সাগর বড়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৮:৩৪ ১৩৪ বার পঠিত | ● আগৈলঝাড়া ● কবর ● জুলাই ● বৈষম্যবিরোধী ● মা ● সাগর