ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » বাউফল মহাসড়কের বেহাল দশা,যেন এক মরণ ফাঁদ!

বাউফল মহাসড়কের বেহাল দশা,যেন এক মরণ ফাঁদ!


জিতেন্দ্র নাথ রায়,স্টাফ রিপোর্টার ( বাউফল )
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫


বাউফল মহাসড়কের বেহাল দশা,যেন এক মরণ ফাঁদ!


পটুয়াখালী:
বাউফলের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। এসব সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট,বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এতে ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড় কে যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় তিনটি উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

একাধিক সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক যাত্রীবাহী বাসগুলো চলাচল করতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধ্বস নেমেছে। শিগগিরই সড়কগুলো মেরামত করা না হলে পটুয়াখালী জেলার বাউফল,দশমিনা,গলাচিপার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসি।
বাউফল স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন সংযোগ সড়ক এবং পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা, এবং গলাচিপা উপজেলার শত শত যানবাহন,ট্রান্সপোর্টের গাড়ী,বালবাহী ট্রাক,ভ্যান,অটো,রিস্কা বাউফল উপজেলার কালাইয়া-নওমালা ও হাজীর হাট এবং মিলঘর থেকে বগা ডাঃ ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রী কলেজ গেট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি এখানে আঞ্চলিক মহাসড়কটি ছোট,বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে বিটুমিন উঠে পাথর,ইট,সরে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহি বাস বাউফল, গলাচিপা-দশমিনা ঢকতে গেলেই পড়তে হয় চরম বিপাকে। যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক প্রায়ই আটকে পড়ছে খানা খন্দে। এ সড়কে যানবাহন চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে।

এছাড়া বাউফল উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাকা সড়ক এখন চলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। অতিবর্ষণে সড়কের পিচ উঠে গর্ত ও খানা খন্দে ভরা। এতে উপজেলা সদরের সাথে চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সূত্র আরো জানায়, বাউফলের ১৪টি ইউনিয়নের উপজেলা সাথে গ্রামের মানুষের সেতু বন্ধণের সৃষ্টি করার লক্ষে উপজেলা টু ইউনিয়ন কানেকটিং প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পে সড়ক নির্মাণ হয়। এ ছাড়া বহত্তর বড়গুনা পটুয়াখালী প্রকল্প। কিন্তু দীর্ঘ দিনে সংস্কার না হওয়া এবং ঠিকাদার কাজ পেয়ে সাব ঠিকাদরের কাছে বিক্রি ও সংশ্লস্ট কতৃপক্ষের তদারকি না থাকায় নির্মাণের ১ বছরেই সড়কের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর মধ্যে সাড়ে ৮ শ কিমি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় প্রায় সাড়ে ৪৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়।

এর মধ্যে কনকদিয়া থেকে কাছিপাড়া ভায়া বাহেরচর ও শাপলাখালী ব্রীজ থেকে কনকদিয়া, বাউফল বাংলাবাজার সড়কের থেকে নাজিরপুর মুন্সীবাড়ি ও সুলতানাবাদ, বড়ডালিমা ব্রীজ থেকে ধানদী বাজার ভায়া কেশবপুর-ভড়িপাশা খেয়াঘাট থেকে তালতলি বাজার,ভায়া মমিনপুর বাজার। নুরাইনপুর থেকে কনকদিয়া ভায়া কাছিপাড়া, ঘুশিংগা পল্লীবিদ্যুৎ অফিস থেকে অলিপুরা বাজার,কাঁচা সড়ক কেশবপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের খন্দকার বাড়ি থেকে তেঁতুলিয়া নদীর পাড় কয়েকটি প্রধান সড়কসহ ১৫ ইউনিয়নের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার অভ্যান্তরিণ সড়ক নস্ট হয়েছে।
এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ২ ফুট আবার কোথাও ৪ ফুট গভীর গর্তের কারনে যানবাহন চলাচল ব্যহত হয়।
বর্ষা মৌসুমে সড়কের ভাংঙ্গা অংশে কাদা-পানি জমা হয়ে থাকায় সাধারন মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মাঝে মধ্যে প্রধান ও আভ্যন্তরিণ কিছু সড়কের খানাখন্দ মেরামত করা হলেও মাস যেতে না যেতেই তা আগের চেহারায় ফিরে যায়। তাই সড়কগুলোদিয়ে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। প্রতিদিন ঘটছে নানা দূর্ঘটনা।

প্রধান ও আভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর এ বেহাল অবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্থ করছে বলে মনে করছেন ওই সব এলাকার স্থানীয় লোকজন। ভাংঙ্গা সড়কের কারণে পণ্য পরিবহনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ওই সড়কগুলো অধিকাংশ স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধের পথে। রাস্তার গর্তের জমানো পানিতে নৌকা ছেড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
বাউফলের নওমালা বাজারের আব্দুল মোতালেব চৌকিদার নামের এক ব্যবসায়ী জানান,মাত্র তিন বছর হয়েছে এ সড়কটি ভাঙ্গাব্রীজ থেকে মিলঘর ৬ কিলোমিটার এবং মাধবপুর বাজারের অনুকুল সর্দারের বাড়ীর পরে ৪ কিলোমিটার বগা কলেজ পর্যন্ত এ যেন যাত্রীদের মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সড়কে তৈরি হওয়া বড়বড় গর্তে আটকে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক শ্রমিকরা পণ্য পরিবহন করতে চান না।

অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি করে পণ্য আমদানী করছেন। তিনি খুব শিগগিরই সড়কগুলো মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার দাবী জানান। দশমিনা- ঢাকাগামী আব্দুর রহিম নামে এক যাত্রী জানান, দশমিনা ভায়া বাউফল- ঢাকা সড়ক যোগাযোগ বর্তমানে এতটাই খারাপ যে পূর্বের তুলনায় দশমিনা থেকে ঢাকা যেতে দুই ঘন্টা সময় বেশি লাগে। তাই সড়কটি মেরামত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী মো: বোরহান উদ্দিন মোল্লা জানান, সড়কগুলো খারাপ হওয়ার পিছনে বড় চাকার লড়ি গাড়িগুলোকে দায়ি করছেন তিনি।লড়ি গাড়িগুলোর মেশিন জমি চাষের ক্ষেতে ব্যবহার করার কথা থাকলেও মেশিনের সাথে অতিরিক্ত বডি সংযোজন করে তা দিয়ে মালামাল পরিবহন করার কারণে সড়কগুলো ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তবে কিছু কিছু সড়কের প্রাক্কলন প্রস্তুত করে সদর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ০:৪৮:৫০   ১৯৭ বার পঠিত  |      







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ