ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » হাতিয়ায় ছাত্র-অভিভাবকদের মামলার হুমকির প্রধান শিক্ষকের

হাতিয়ায় ছাত্র-অভিভাবকদের মামলার হুমকির প্রধান শিক্ষকের


এম সাখাওয়াত হোসেন,হাতিয়া(নোয়াখালী)
প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫


হাতিয়ায় ছাত্র-অভিভাবকদের মামলার হুমকির প্রধান শিক্ষকের

নোয়াখালী: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের এক ছাত্র অভিভাবককে অশ্রাব্য অশ্লীল গালমন্দ ও মামলার হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে অভিভাবক মোহাম্মদ বাকের হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযুক্ত মামুন অর রশিদ উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ম্যাকপার্শ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়।

অভিযোগে জানা যায়, পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র তাওরাতের বাবা মোহাম্মদ বাকের হোসেন তার ছেলের বৃত্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত পড়ালেখার বিষয়ে খোঁজ নিতে স্কুলে যান।

এ সময় জানতে পারেন যে প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশিদ ছুটিতে আছেন। তখন তিনি প্রধান শিক্ষককে মোবাইলে ফোন দিয়ে ছেলের পড়ালেখার বিষয়ে জানতে চান। পরে স্কুলের সহকারি শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে চলে আসার পর প্রধান শিক্ষক ফিরতি ফোন দিয়ে অশ্রাব্য ও অশ্লীল গালমন্দ করে এ অভিভাবক কে। এক পর্যায়ে তিনি স্কুলে গিয়ে তার বিষয়ে জানতে চাওয়ার অধিকার তাকে কে দিয়েছে বলে ওই অভিভাবককে অপমান অপদস্ত করে মামলা হামলার হুমকি দেয়।
অভিভাবক বাকের হোসেন বলেন, আমি শুধু ছেলের পড়াশোনা খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ক্ষুদ্ধ হয়ে আমাকে অপ্রত্যাশিত ভাবে অপমান অপদস্ত করেন এবং নানান ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যাহাতে আমি বিব্রত।
এ ঘটনায় অন্যান্য অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্কুলে সন্তানদের খোঁজ খবর নেওয়া অভিভাবকদের অধিকার। অথচ দায়িত্বে থাকা একজন প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরণের আচরণ শুধু অভিভাবকদের জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যও নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। সে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানান ধরণের অনিয়মের সাথে জড়িত আছে। কোন শিক্ষক বা অভিভাবক তার মতের বাহিরে গেলে মামলা হামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এলাকার অনেকে তার ভয়ে মুখ খুলতে পারে না।
এলাকার স্থানীয় গোলাম ছাওয়ার এবং সাবেক ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, বাকের হোসেন সহ আমরা স্কুলের পাশে বাজারে চায়ের দোকানে বসা ছিলাম। ঐ সময় প্রধান শিক্ষক বাকেরকে ফোন দিয়ে উচ্চবাচ্য করতে থাকে। বাকের কেন স্কুলে গেল। কেন তার বিষয়ে জানতে চাইলো। এজন্য গালমন্দ করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মামুন বাকেরকে ১৪ শিকের ভিতর ঢুকাইয়া দিবে বলে হুমকি দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে মামুন অর রশিদের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাকের আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ দিবে। আমাকে এবং শিক্ষকদের সাথে খারাপ ব্যবহারের জন্য আমি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল জব্বার বলেন, অভিভাবকের অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৬:৪৪   ৩৭৭ বার পঠিত  |               







চট্রগ্রাম থেকে আরও...


যারা ধর্ষণের মিথ্যা তথ্য প্রচার করে হাতিয়াকে কলংকিত করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে: মাহবুবের রহমান শামীম
হাতিয়ায় দরজার বাহিরে তালা দিয়ে ছাত্রদল নেতার ঘরে আগুন
হাতিয়ায় হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে এনসিপির বিরুদ্ধে হিন্দুসম্প্রদায়ের মানববন্ধন
নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী
হাতিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় বিটিভির সাংবাদিক সহ আহত ৩০



আর্কাইভ