ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলখ্যাত দিনারপুর এলাকার রুকনপুরে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। পাহাড়ের লাল মাটি উচ্চদামে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। রুকনপুরে পাহাড় কাটার ঘটনায় একই পরিবারে ৪ ভাইকে আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আরো ১২জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
অভিযানের সময় আটক মাটি কাটার এক্সলেটর মেশিন মালিকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলা পানিউমদা ভুমি অফিসের তহসিলদার তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।
জানাগেছে, স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেনের নেতৃত্বে গত ৫দিন ধরে পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার রুকনপুরে পাহাড় কেটে মাটির রমরমা ব্যবসা করছে একটি অসাধু চক্র। প্রশাসেেনক বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাতে এক্সেভেটর দিয়ে মাটি উত্তোলন করছে চক্রটি। এতে ৩/৪টি ট্রাক্টর প্রতিদিন মাটি বহন করে। ফলে এলাকার রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে পড়ছে।
এছাড়া পাহাড় কাটার মেশিনের শব্দ ও ট্রাক্টরের চলাচলের শব্দে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। পাহাড় কাটার সরকারী কোন অনুমতি না থাকলেও দেদারছে মাটি উত্তোলন করছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতি গাড়ি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যে মাটি বিক্রি করা হয়। এতে করে গত কয়েকদিনে কয়েক লাখ টাকার মাটি বিক্রি করেছে চক্রটি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসান ও শাহ আহিদুর রহমান বলেন, রাতের আঁধারে এক্সেভেটর দিয়ে পাহার কেটে মাটি বিক্রি করছে কয়েকজন প্রভাবশালী। এতে প্রতিদিন ট্রাক চলাচল করায় ঘুম ভেঙ্গে যায়। এছাড়া রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন যেন মাটি কাটা বন্ধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করে।
গত বুধবার রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রুকনপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রত্যয় হাশেম। তিনি এসময় একটি মাটি কাটার মেশিন এক্সলেটর আটক করেন। পরে এক্সলেটরটি মালিকের জিম্মায় ছেড়ে দিয়ে মাটিকাটার সাথে সম্পৃক্ত ৪ ভাইকে আসামি করে ১২জনকে অজ্ঞাতনামা রাখা হয়, নিয়মিত মামলার জন্য চিঠি পাঠান নবীগঞ্জ থানায়।
ওই চিঠির প্রেক্ষিতে গভীর রাতে নবীগঞ্জ থানার মামলা নং ০১ তারিখ ০১/১০/২০২৫ ধারা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০১০ এর ১৫(১) এর ১/১৫(১) এর ৮/১৫(১) এর ১২ ধারায় রুজু করা হয়। আসামি হলেন, রুকনপুর গ্রামের মৃত মফিজ উল্লাহ পুত্র আলী হোসেন, আমির হোসেন,আবির হোসেন,জাকির হোসেন ।
এদিকে, অপর একটি সূত্র জানায়, একই উপজেলার দিনারপুরে ও পার্শ্ববর্তী বাহুবল উপজেলার পুটিজুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাটি উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। প্রশাসনকে বৃৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাটি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে চক্রটি।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কামরুজ্জামান বলেন, নবীগঞ্জে টিলা থেকে মাটি উত্তোলনের ঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তে সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, আমরা তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে অভিযান চালাই, এসময় কাউকে পাওয়া যায়নি, একটি মাটি কাটার মেশিন এক্সলেটর শুধু পাওয়া যায়, পরে তদন্ত করে জানি এই ঘটনার সাথে সরাসরি ৪জন জড়িত আছেন, তাদের নাম উল্লেখ করে ১২জনকে আসামি করে মামলা করার জন্য নবীগঞ্জ থানায় চিঠি প্রেরন করি। এর প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা র্নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, আমরা ৪জনের নাম উল্লেখ করে ১২জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। পাহাড় টিলা কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাটি কাটার এক্সলেটর মেশিনটি মালিকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫২:২২ ১৪১ বার পঠিত | ● কাটা ● টিলা ● নবীগঞ্জ ● পাহাড়ি ● মামলা