ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ময়মনসিংহ » নাসিরনগরে ভরা মৌসুমে সবজির বাজার অস্থির, বিপাকে সাধারণ মানুষ

নাসিরনগরে ভরা মৌসুমে সবজির বাজার অস্থির, বিপাকে সাধারণ মানুষ


খ.ম.জায়েদ হোসেন,নাসির নগর,(ব্রাহ্মণ বাড়ীয়া)
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫


নাসিরনগরে ভরা মৌসুমে সবজির বাজার অস্থির, বিপাকে সাধারণ মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: জেলার নাসিরনগর উপজেলায় শীতের ভরা মৌসুম, কৃষকের মাঠ ভরা ফসল, ফলনেও বাম্পার তবুও প্রকার ভেদে দুই থেকে তিন গুণ দাম বেড়েছে সকল ধরনের সবজির।

এদিকে দেশের সাধারণ মানুষের আয় উপার্জনের ওপর নির্ভর করে খরচের ক্ষেত্রে চলছে অভাব অনটন দুঃখ দুর্দশার হাহাকার ফলে এই মুহূর্তে দ্রব্যমূল্যর পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আয়ের ওপর নিত্যদিনের খরচের সামঞ্জস্য রাখতে মূর্চ্ছা যাচ্ছে নিম্ন মধ্যম আয়েরের মানুষদের। কারণ বর্তমানে বাজারে গেলেই ১২০ টাকা থেকে ৮০ টাকার নিচে কোন ধরনের সবজি মিলছে না। সাথে কাঁচা মরিচের তালমাতাল অবস্থা প্রায় বছর খানেক ধরে চললেও সর্বশেষ ২ শ টাকা ঠেকেছে কেজিতে। তাও মাঝেমধ্যে সরবরাহের অভাবে বাজারে সংকট দেখা দিচ্ছে।

উপজেলার সদর বণিক পাড়ার একজন ক্রেতা বলেন,১ হাজার টাকা নিয়ে সবজি বাজারে ঢুকলে মাত্র কয়েক পদের সবজি কিনলেই পকেট ফাঁকা হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে মাছ-মাংস আমাদের মতন মানুষদের কাছে থেকে যাচ্ছে সাসাধ্যের বাইরে। যদিও ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের মুখে একপর্যায়ে নির্যাতিত ফ্যাসিস্ট সরকার পতন হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছে অবৈধ কালো বাজারী সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।

অথচ প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে বাজার পর্যায় নাই জোরালো মনিটরিং । নাসির নগরে খুচরা বাজারে বেগুন ৮০- ১০০ টাকা ফুলকপি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পালং শাক কেজি ৬০থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা পাতাকপি ৭০ টাকা, লাল শাক ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচের কেজি ডবল সেঞ্চুরির ঘরে। সামগ্রিকভাবে দাম বেড়েছে আলু, বেগুন, কাঁচা, মরিচ, ধনেপাতা সহ প্রায় সব ধরনের সবজি আকাশ ছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এ যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের দেশ।

দিনরাত পরিশ্রম করে যে সকল কৃষকরা ফসল ফলিয়েছেন তারা পাচ্ছে না ন্যায্য দাম। মাঠে বসে ফুলকপি প্রতি পিছ হিসেবে বিক্রি করছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা যার ওজন এক কেজি থেকে সামান্য কম বাজারে আসলে দামে হচ্ছে দ্বিগুণ ফলে ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে দাম উঠে যায় ১০০ টাকার ওপরে। এদিকে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা যেমন থাকে লোকসানে তেমনি সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। বাস্তবিক পক্ষে ভোক্তা অধিকার সংস্থা যদি একটু সচেতন অবস্থানে থাকে তাহলে কিছুটা হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।

এদিকে সবজির সাথে মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা ২৬০ টাকার সোনালি মুরগি ৩০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে বয়লার ও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে কেজি হয়েছে ১৮০ টাকা পাশাপাশি পিয়াজের ও আগের তুলনায় দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা ১০০থেকে ১১০ টাকা। অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ-মাংস চাউলের দাম।  ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার নাসির নগর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজারে সরজমিনে দেখা গেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার কমে কোন সবজিই নাই।

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু কিছু সবজি মাইকিং করে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেলেও তা এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকার কম মিলছে না। একটু ভালো মানের পেপে কিনতে গেলে ৫০ টাকা শসার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বরবটি ৮০ থেকে ১০০টাকা কেজি, গাজর ৯০ টাকা, সিম ১০০থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১০০থেকে১২০টাকা, ৭০ থেকে ৯০ টাকা লাউ, চালকুমড়া, পিস ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। পুঁইশাক এখন আর কেজিতে বিক্রি হচ্ছে না বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা আটিতে । প্রতিনিয়ত দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে বিক্রেতারা বলেন সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই শাকসবজি সহ নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে পকেট খালি হচ্ছে আমাদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে সারা মাস জুড়ে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের অজুহাতের শেষ নাই। আন্দোলন দেশের পরিস্থিতি খারাপের কথা বলে দাম বাড়িয়ে ও পার পেয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

খোলা বাজারে পেঁয়াজ কেজি ১০০থেকে ১২০ টাকা। এদিকে বাড়তি দামের ব্যাপারে উপজেলার সদর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন হঠাৎ করে বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে তার মধ্য ছোলার দাম বেড়ে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে মুগডালের দামও বাড়তি ১৮০ টাকা কেজি সিন্ডিকেট করে সব জিনিসের দাম বাড়ছে। এখন তো রমজান মাস নেই তাহলে ছোলার দাম বাড়ে কেন তেল চিনির দামও কমছে না। এদিকে বিক্রেতারা জানান আগের সপ্তাহে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা হলেও বুধবার তা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিও আমদানি করা পেঁয়াজ ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আলু গতানুগতিক ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে রসুন দুইশ থেকে ২২০ টাকা আদার দামও বেড়েছে তা ১২০-১৫০টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই সাথে উপজেলার বিভিন্ন বিক্রেতারা জানান আগের মতই মসুর ডাল ১১০থেকে ১৩৫ টাকা ছোলা ১৪০ টাকা কেজি ২ কেজি ওজনের প্যাকেট আটা ১০০ থেকে ১৩০ টাকা খোলা আটা ৪৭ টাকা কেজি। সবকিছু মিলে সাধারণ মানুষদের আক্ষেপ দেশে নির্বাচিত সরকার থাকলে তাদের খেয়ালখুশি মতন স্বেচ্ছাচারিতা করেছে।

এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন করে দেশের হাল ধরলেও তারা ও তাদের নিজ গতিতে অন্য কাজ করলেও তদারকি নাই সাধারন মানুষের খেয়ে বেঁচে থাকা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দিকে। আবার এদিকে দেশের দিন দিন কাজ কর্মের চাহিদা ও কমে যাচ্ছে শ্রমিক বেকার হচ্ছে ফলে তাদের দিন চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

তবে এই মুহূর্তে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ছাত্র জনতা একত্রিতভাবে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা না করে তাদের পাশে না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে এগিয়ে অনাহার অর্ধহারে দিন কাটাতে হবে সাধারণ মানুষদের। সামান্য আয় উপার্জনের উপর নির্ভর করে সাংসারিক অভাব দুঃখ দুর্দশা যেন নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে রয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৯:৩০   ৮০ বার পঠিত  |            







ময়মনসিংহ থেকে আরও...


ময়মনসিংহ-২ আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ, ব্যালট সংরক্ষণে আদালতের নির্দেশ
কলমাকান্দায় রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল
ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী
তারাকান্দায় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানিটারী ন্যাপকিন বিতরণ
কলমাকান্দায় মানবিক সহায়তা বাস্তবায়ন কমিটির সভা



আর্কাইভ