ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: হাতিয়ায় সম্প্রতি জাগলার চরের দখল নিয়ে সংঘর্ষে ছয়জন নিহতের ঘটনায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। দুই মামলায় ৫১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে এনসিপি, বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।
সংঘর্ষের ঘটনায় ভিন্ন সময়ে দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এর একটি মামলার বাদী আবুল বাসার। তিনি সামছু গ্রুপের প্রধান ‘কোপা সামছু’র ভাই। অন্য মামলার বাদী মহিউদ্দিন। তিনি অন্য পক্ষের নিহত আলাউদ্দিনের বাবা।
মহিউদ্দিনের মামলায় ২১ জন আসামি। এর মধ্যে ৯ জন এনসিপির বিভিন্ন কমিটির নেতা। বাকিদের মধ্যে অধিকাংশই এনসিপির সদস্য, সমর্থক। অন্যদিকে আবুল বাসারের মামলায় ৩০ জন আসামি। এর মধ্যে ৩ জন বিএনপির নেতা। বাকি কয়েকজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক।
আবুল বাসারের মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে চরকিং ইউনিয়নের মনির উদ্দিন মেম্বারকে। পদ-পদবি না থাকলেও তিনি বিএনপির কর্মী। ৩০ নম্বর আসামি মো. রাসেল সুখচর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। ২৮ নম্বর আসামি ফিরোজ উদ্দিন সুখচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
মহিউদ্দিনের মামলায় ১৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে নেয়ামত উল্যাহ নীরবকে। তিনি উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক। ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে এনসিপির সুখচর ইউনিয়নের আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিনকে। এছাড়া একই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সালাউদ্দিন, মো. ইউসুফ, আবুল কালাম আজাদ ও মো. নূর উদ্দিন এনসিপির সদস্য। একই মামলার ১৬ নম্বর আসামি চরকিং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য একরাম উদ্দিন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। একই মামলার ১২ নম্বর আসামি সমির উদ্দিন হরণী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া ২১ জন আসামির মধ্যে অধিকাংশ এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম জানান, জাগলার চরে সংঘর্ষে নিহত শামছুর ভাই আবুল বাশার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। জেলা সদর হাসপাতালে নিহত হন আলাউদ্দিন। ঘটনার পর থেকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ ছিল। আলাউদ্দিনের বাবা দুই দিন পর থানায় এসে মামলা করেন। অভিযোগে যেভাবে আসামি করেছে, সেভাবে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মামলায় কাদের আসামি করা হয়েছে, তা পুরোপুরি দেখার সুযোগ হয়নি। পরে তদন্তের মাধ্যমে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর সকালে জাগলার চর দখলকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন ও সামছু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জেলা সদর হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার দুই দিন পর সামছুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:১৯:৩২ ৮৩ বার পঠিত | ● এনসিপি ● চরে ৬ খুন ● নেতা ● হাতিয়া