ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: পৌষের মাঝামাঝিতে শীতের দাপটে কাঁপছে সারা দেশ। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার হাওর বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলা সহ দেশের হাওর বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। কয়েকদিন ধরে ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে পুরো অঞ্চল।
সারা দিনে দেখা মিলছে না সূর্যের। কখনও কখনও একবার দেখা মেললেও তা আবার হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে। আগামীকাল বুধবার থেকে দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
উপজেলায় ভোর থেকে ১১-১২টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
তীব্র শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুররা। ভোরে কাজে বের হতে না পারায় অনেক শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে যাচ্ছে। কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও ইটভাটার শ্রমিকরা শীতের কারণে নিয়মিত কাজে যোগ দিতে পারছেন না। কৃষি খাতেও পড়েছে শীত ও কুয়াশার নেতিবাচক প্রভাব। কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের বীজতলায় ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা বেড়েছে। কুয়াশার কারণে মাঠে কাজ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের ভয়ে শিশু ও বাড়ির বয়স্কদের জন্য চলছে আলাদা যত্ন। কেননা তীব্র শীতে সবার আগে অসুস্থ হন বাড়ির বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা। চিকিৎসকরা জানান, শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার, কুসুম গরম পানি পান এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভোর ও রাতের দিকে শীত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ১৮.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোনিম্ম ১২.০৭ ডিগ্রি।
এর আগের দিন ৬ জানুয়ারি সর্বনিম্ন ছিলো ১১ এবং সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি, ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিলো সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং ১ জানুয়ারি ছিলো সর্বনিম্ন ১১ এবং সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের চিকিৎসক ডাঃ সাইফুল ইসলাম জানান, সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমনিয়া এবং ডায়রিয়া ও কলেরা এগুলোই মূলত শীতজনিত রোগ। আর এসব রোগে সবার আগে আক্রান্ত হয় শিশু ও বয়স্করা। এখনও হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী তেমন ভর্তি না হলেও যেভাবে শীত পড়ছে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন না নিলে এসব রোগীর সংখ্যা বাড়বে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৭:০১ ১৭২ বার পঠিত | ● নাসিরনগর ● নিম্ন আয় ● মানুষ ● শীতে বিপর্যস্ত