ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: নির্বাক অপলক দৃষ্টিতে হাজারো মানুষের ভীরে মাকেই খুঁজছে ৯ বছরের শিশুকন্যা রূপান্তিকা রুপু। হাজার মানুষের ভীরে বাড়ির উঠোনে পরে আছে মা জয়ন্তি হালদারের নিথর দেহ। আজ বিশ্ব মা দিবস হয়তো তার বোঝার বয়সই হয়নি, বছর ঘুরে এই দিনটি ফিরে এলে রূপান্তিকাকে মনে করিয়ে দিবে বেদনা বিধুর ১০ মার্চ আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতিবছর বিশ্ব মা দিবসে মনের অজান্তেই রূপান্তিকা’র দু-চোখ থেকে গড়িয়ে পরবে সমুদ্র ধারায় নোনা পানি। বিশ্ব মা দিবসে মাকে হারিয়েছে ৯ বছরের শিশু শিক্ষার্থী রূপান্তিকা ও সদ্য ভূমিষ্ট এক শিশু। এমনই হৃদয় বিদারক ঘটনায় পরিবার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছে। পরিবার কল্যাণ সহকারি (FWA) পদে কর্মরত ছিলেন জয়ন্তী হালদার, পরিবার কল্যাণ সহকারী মাঠকর্মী হিসেবে গ্রাম বাসীকে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছিলেন জয়ন্তী হালদার। তার মেয়ে রূপান্তিকা আগৈলঝাড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী।
শনিবার রাতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা জয়ন্তী হালদারের স্বামী রূপম দাস বাড়িতে না থাকায় তাদের কক্ষ থেকে গোঙ্গানির শব্দ পেয়ে কাছে গিয়ে পুত্রবধূকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায় শাশুড়ি দেবযানী দাস, এসময় জয়ন্তী হালদারের স্বামী রুপম দাস তার কর্মস্থলে ছিলেন। জয়ন্তীর শ্বশুর দেবানন্দ দাস সহ পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একলাম্পশিয়ায় আক্রান্ত জানিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। গভীর রাতে সেবাচিমে জরুরী বিভাগে ভর্তির পর দীর্ঘ ১৭ ঘন্টায় জয়ন্তী হালদারের জ্ঞান না ফেরায়, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সিজার করার পরামর্শ দেয় তার পরিবারকে, রোববার বিশ্ব মা দিবসের দিন দুপুর ২ টায় সিজার করা হয়।
পরবর্তীতে জয়ন্তীর অবস্থার অবনতি হলে বাচ্ছাসহ মাকে সিসিইউ ও আইসিইউ নেয়া হয়, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় ২০ ঘন্টা পর বিকাল পাঁচটার দিকে প্রসূতি মা-জয়ন্তী হালদার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। গর্ভে থাকা সাত মাসের সদ্য ভুমিষ্ট কন্যা-শিশু সেবাচিমে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ১০ ঘন্টা থাকার পর গভীর রাতে শিশুটিও মারা যায়। রোববার রাতে জয়ন্তী হালদারের মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্স যোগে নিজ বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামে নিয়ে আসলে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণ সৃষ্টি হয়। সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুকন্যা মৃত্যু ঘোষণা হওয়ার পরে তাকেও অ্যাম্বুলেন্স যোগে গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে এনে সমাহিত করা হয়। মৃত জয়ন্তীর বাবা মা ভাই বোন ও স্বামীর পরিবারের লোকজন বিলাপ করে বারবার জ্ঞান হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন।
মৃত জয়ন্তী হালদারের সাথে থাকা বোন জামাই অমল সরকার জানান, জয়ন্তীর অসুস্থাতার খবর পেয়ে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরবর্তীতে বরিশাল সেবাচিম-এ চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। গভীর রাতে নবজাতক শিশুটিও মারা যায়। আমরা বহু চেষ্টা করেও তাদের বাচাতে পারি নাই।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৬:২০ ৪৪ বার পঠিত | ● আগৈলঝাড়া ● মৃত্যু