ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সম্মাননা পেয়ে বাড়িতে ফেরার পর আক্রোমনের শিকার শিক্ষক। শিক্ষকের গলায় চাপাতি ধরে হত্যার হুমকি ও পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগ। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের।
সরেজমিন ও থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে সোমবার বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মনোনিত হন উপজেলার নাঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিমল মল্লিক।
এ খবরে শিক্ষক দম্পতির পরিবারের সবাই যখন খুশি, শিক্ষক বাড়ি ফিরে রাত সারে ৯টার দিকে স্ত্রী রিতা বৈদ্যে’র জন্য ঔষধ কিনতে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে একই এলাকার বিকাশ অধিকারী পূর্ব শত্রুতার জেরধরে শিক্ষক বিমল মল্লিককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে গলায় চাপাতি ধরে হত্যার হুমকি দেয়।
এ সময় শিক্ষক বিমল মল্লিক দুরে দারিয়ে থাকা অপর শিক্ষক দীপক অধিকারীর সাহায্য চাইলেও তিনি এগিয়ে আসেননি তবে স্থানীয় বিপুল সাহার ছেলে পলাশ সাহা এগিয়ে এসে বিকাশ অধিকারীর হাত থেকে রক্ষা করে।
পরে বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী অচিন্ত বাড়ৈর দোকানে শিক্ষক বিমল মল্লিক আশ্রয় নিলে বিকাশ অধিকারী সেখানে গিয়েও পুনরায় হামলার চেষ্টা করে। পরে শিক্ষক বিমল মল্লিক দৌড়ে নিজ বাড়িতে যায়।
এ ঘটনায় ওই রাতেই শিক্ষক বিমল মল্লিক আগৈলঝাড়া থানায় নিজে বাদী হয়ে বিকাশ অধিকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
আগৈলঝাড়া থানার এস আই সেলিম রেজা সরেজমিনে আস্কর গ্রামে গিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে।
এ বিষয়ে ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা যে যার মত বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, ভয়ে ও আতঙ্কে মুখ খুলছে না কেউ, কেউ বলছে আমি কিছুই দেখিনি, কেউ বলছে আমি দোকানে ছিলাম না, কেউবা বলছে ওই সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আমি দেখতে পাইনি।
আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে নাঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আস্কর গ্রামের সুধীর রঞ্জন মল্লিক’র ছেলে বিমল মল্লিক উপজেলায় সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মনোনীত হন।
এ ব্যাপারে শিক্ষক বিমান মল্লিক বলেন বিকাশ অধিকারী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে গলায় কেন চাপাতি ধরে হত্যার হুমকি দিল আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, তবে পূর্বে বিকাশ অধিকারীর বংশীয় পরিমল অধিকারী আমার উপর হামলা করেছিল এবং বিকাশ অধিকারী নিজে কলেজ মিলনায়তনে ঢুকে আমার স্ত্রীকে সকলের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিল পরবর্তীতে আস্কর কালী মন্দিরে আমার আয়োজনে মাসিক কালিপূজা চলাকালীন সময়ে আমাকে জনসমূক্ষে গালাগালসহ লাঞ্ছিত করে মন্দির থেকে বের করে দিয়েছিল।
আমার স্ত্রী একটি কলেজের শিক্ষক এবং আমি একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এর পরেও বিকাশ অধিকারীর এ ধরনের অত্যাচারের শিকার আমি ও আমার পরিবার তাই প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সঠিক বিচার দাবী করছি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে আস্কর পুরান কালিবাড়ি বাজারে দুপুরে স্থানীয় হীরালাল অধিকারীর ছেলে সমিরন অধিকারী বলেন আমি গতকাল রাতে বিকাশ অধিকারীকে মন্দিরের পিলারের সাথে চাপাতি ধার দিতে দেখেছি।
একই গ্রামের বুদ্ধিশ্বর মল্লিকের ছেলে রঞ্জিত মল্লিক জানান আজ সকালে স্থানীয় সর্বানন্দ অধিকারী বিকাশ অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন বিমল মল্লিককে কোপাইলি না কেন?, তুই কুপিয়ে আমাকে খবর দিতি।
ভাস্কর কালিবাড়ী বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী অচিন্ত বাড়ৈ জানান সোমবার রাতে শিক্ষক বিমল মল্লিক আমার দোকানে আসে কিছুক্ষণ পরে বিকাশ অধিকারিও আসে আমি আমার পাশের দোকানে পণ্য মাপার জন্য যাই, আর কিছু জানি না।
আস্কর কালিবাড়ী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রিতা বৈদ্য (বিমল মল্লিকের স্ত্রী) জানান এই বাজারের মন্দিরে আমরা প্রতিদিন আসি, আজকে আসতে পারিনি, পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
অভিযুক্ত বিকাশ অধিকারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ৮ বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি, পরবর্তীতে তার বসত বাড়ীতে গিয়ে ঘর তালা বদ্ধ থাকায় তার বা পরিবারের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লিখিত অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এস আই মোঃ সেলিম রেজা বলেন শিক্ষক বিমল মল্লিকের অভিযোগের পর সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট একাধীক ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছি, তদন্ত চলমান রয়েছে, শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৭:৪৯ ২ বার পঠিত | ● ● আগৈলঝাড়া ● শিক্ষক ● হত্যার ● হুমকি