ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ফরিদপুর: গরুর রশি গলায় বেঁধে গরুসহ ছেড়ে দেওয়া হয় শিশু তামিম ইসলামকে। গরুটি দৌড় দিলে তামিমের গলায় রশি পেচিয়ে গলা আটকে আহত হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তামিম ইসলামের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায়। সে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামে চেরাগ আলীর বাড়িতে লজিং থেকে স্থানীয় মাদরাসায় লেখাপড়া করতেন। এ ঘটনার সাথে জড়িত কাওছার মৃধাকে শুক্রবার দুপুরে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়ার মারকাজুল কুরআন মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম ইসলাম (১০) বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসার বাউন্ডারীর মধ্যে স্থানীয় কাওছার মৃধার গরু প্রবেষ করে গাছ খেতে থাকলে তামিম গরুটিকে তাড়িয়ে দেয়। এতে গরুর মালিক কাওছার মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে তামিমকে সেই গরুর রশি দিয়ে গরুর সাথে বেঁধে ছেড়ে দেয়।
তামিমকে নিয়ে গরু দৌড় দেয়। তামিমের গলায় রশি জড়িয়ে যায়, সে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তামিমকে উদ্ধার করে। আহত তামিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রশির চাপে তামিমের গলায় দাগ বসে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় অনেক লোকজন বিচারের দাবি তোলে। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় কুচিয়াগ্রাম ও নওয়াপাড়া দুই গ্রামের লোকজন সালিশ করতে ব্যর্থ হয়। ঘটনার সাথে জড়িত কাওছার মৃধার বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ করতে চায় স্থানীয় যুবসমাজ। এরমধ্যে দুপুরেই পুলিশ কাওছার মৃধাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম সোহাগসহ অনেক যুবক জানান, এ নৃশংস ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা এর বিচার দাবি করছি প্রশাসনের কাছে। একজন কোমলমতি শিশুর ওপর এ ধরনের নির্যাতন কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিশু নির্যাতনের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলেছেন একাধিক যুবক।
নওয়াপাাড়া গ্রামের লজিং মালিক চেরাগ আলী বলেন, আমার বাড়িতে তামিম নামের ছেলেটি থাকতো সে ছিল আমার সন্তানের মতো। এ ঘটনার বিচার চাই।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যবসার কাজে আমি দুরে আছি। তামিম আমাদের মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। এবছরই মাদরাসাটা চালু করেছি। তামিমের ঘটনায় নওয়াপাড়া ও কুচিয়াগ্রামের মুরব্বীদের বিচারের ভার দেওয়া হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ট বিচার দাবি করেছেন।
কাওছার মৃধার ছোট ভাই বিশু মৃধা জানান, আমার বড় ভাইয়ের সাথে কি ঘটেছে আমি কিছুই জানি না। পুলিশ আমার ভাইকে আটক করেছে। আশা করি তারা তদন্ত করবেন। যদি আমার বড় ভাই অপরাধী হয়ে থাকে অবশ্যই তার বিচার চাই।
আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কাওছার মৃধা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এখনও কেউ মামলা করেনি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫২:১২ ৬ বার পঠিত | ● আলফাডাঙ্গা ● নির্যাতন ● মাদরাসা ● শিশু শিক্ষার্থী
----