ঢাকা সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পিরোজপুর: কাউখালীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় বসবাসে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে অফিসের নির্ধারিত সময়ের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বা জরুরি সরকারি কাজকর্ম সম্পন্ন করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আবাসিক সমস্যার এই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও, যার ফলে অনেকাংশেই পিছিয়ে পড়ছে এলাকার সামগ্রিক অগ্রগতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অত্র উপজেলায় মোট ৩২টি সরকারি দপ্তর রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী ২৭টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপজেলায় আবাসিক ভবনে থাকার কথা। অথচ বর্তমানে তাদের থাকার জন্য কোনো উপযুক্ত সরকারি ভবন নেই।
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সরকারের আমলে ১৯৮৫ সালে উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জন্য একটি আবাসিক ভবন, উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য একটি আবাসিক ভবন, গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য একটি ভবন এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য একটি আবাসিক ভবনসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য আরও তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।
কিন্তু কালের বিবর্তনে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের পুরাতন চারটি ভবনই সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়ায় অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী এই উপজেলায় অবস্থান করে অফিস করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তাদের দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে অনেক সময় সাধারণ মানুষ সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলায় আবাসন না থাকার ভোগান্তি ও ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে কাউখালী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ মাসুম মিয়া,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার জানান, উপজেলায় সরকারি আবাসিক ভবন না থাকার কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে বাহিরে বা দূরবর্তী স্থানে বসবাস করতে হয়। এর ফলে সরকারি অফিশিয়াল কাজকর্ম সময়মতো বা জরুরি ভিত্তিতে করতে প্রায়শই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া কর্মস্থলের বাইরে বা অনিরাপদ স্থানে বসবাস করার কারণে আমাদের সবসময় এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগতে হয়।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্যার সত্যতা স্বীকার করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট সত্যিই অত্যন্ত প্রকট। ১৯৮৫ সালে নির্মিত ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য নতুন আবাসিক ভবন তৈরির কাজ চলমান থাকলেও গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের জন্য কোনো নতুন ভবন নেই। আবাসন সুবিধা না থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দূর থেকে এসে অফিস করেন, যার ফলে জরুরি মুহূর্তে বা অফিস সময়ের বাইরে তাদের তাৎক্ষণিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দাপ্তরিক গতিশীলতা যেমন কমে, তেমনি সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
আমরা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আবাসন সংকট দূর করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে নতুন ও আধুনিক বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য লিখিতভাবে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুতই এই বিষয়ে বরাদ্দ পাওয়া যাবে এবং নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৫:৫০ ৫ বার পঠিত | ● আবাসন ● কাউখালী ● চরমে ● সংকট