ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের পাঁচ শতাধিক সবজি চাষির যোগাযোগের প্রধান ভরসা এখন নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত জীর্ণ ভাসমান সেতু। পাখিমারা খালের ওপর প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত স্থানে দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, এসব গ্রাম থেকে কলাপাড়া উপজেলার মোট সবজির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ হয়। প্রতিবছর তিন গ্রামের কৃষকরা প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। এসব পণ্য পাখিমারার পাইকারি বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়। পরে সেখান থেকে বাস, ট্রাক ও পিকআপে করে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়।
তবে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা এখনো অনুন্নত। গ্রামের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো মাটির হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় দূরের কৃষকদের নৌকায় করে কৃষিপণ্য নিয়ে আসতে হয়। এরপর পাখিমারা খাল পার হতে নির্ভর করতে হয় ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে তৈরি করা জীর্ণ ভাসমান সেতুটির ওপর।
স্থানীয় কৃষক আঃ হামিদ হাওলাদার বলেন, “পাখিমারা খালটি প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত। খাল পারাপারের জন্য কৃষকরাই নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে ভাসমান সেতু তৈরি করেছেন। কয়েক দফায় নিজেদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন জিও-এনজিওর সহায়তায় সেতুটি মেরামত করা হলেও দীর্ঘদিন টেকসই করা সম্ভব হয়নি।”
কুমিরমারা গ্রামের কৃষক সুলতান গাজী বলেন, “তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছেন। কুমিরমারাসহ তিন গ্রামের প্রায় সাড়ে পাঁচশ কৃষক প্রতিবছর কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। এসব পণ্য পাখিমারার আড়তে নিতে হয়। কিন্তু বর্ষায় মাটির রাস্তা কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়ে যায়।” তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন করছি। কিন্তু এত বছরেও কৃষকদের সুবিধার জন্য একটি স্থায়ী ব্রিজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। নির্বাচন এলেই আশ্বাস দেওয়া হয়, পরে আর কোনো খবর থাকে না।”
স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর চাকামইয়া এলাকায় ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়ে। তাদের অভিযোগ, ভালো মানের খুঁটি ও স্লিপারের পরিবর্তে নিম্নমানের ও অকেজো মালামাল ব্যবহারের কারণে সেতুটি টেকসই হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত ওই সেতুর অবশিষ্ট অংশ এখনো খালের পাশে পড়ে আছে। কিন্তু সেটি কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। ফলে বর্তমানে ড্রামের ওপর নির্মিত জীর্ণ কাঠের সেতুই তাদের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের একমাত্র অবলম্বন।
কৃষকদের প্রশ্ন, প্রতিবছর যেখানে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে, সেখানে একটি স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে এত দীর্ঘসূত্রতা কেন?
স্থানীয়রা বলছেন, পাঁচ শতাধিক কৃষক ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত এ যোগাযোগব্যবস্থার দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। পাখিমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের পাশাপাশি গ্রামের মাটির সড়কগুলো পাকা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ হাসান বলেন, “পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এটি বাস্তবায়ন করবে। নীলগঞ্জের সবজি চাষিদের দুর্ভোগ লাঘব ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, কুমিরমারাসহ আশপাশের এলাকার সবজি চাষিদের কৃষিপণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ডিজাইন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। এখন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ০:৫৭:৩২ ৪ বার পঠিত | ● কলাপাড়া ● কাঠের ● সেতু