ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
খুলনা: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়রা সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির নেতা নুরুল আমিন বাবুলের নাম আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে তিনি কয়রার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাঁকে কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলে তাঁর সমর্থকেরা দাবি করছেন।
নুরুল আমিন বাবুলের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কথা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত। তিনি কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে নুরুল আমিন বাবুলের সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যোগাযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণসংযোগ করে আসছেন বলেও তাঁর অনুসারীদের দাবি।
বিশেষ করে তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং তরুণদের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়রা তুলে ধরছেন। তরুণদের মাঠমুখী করতে খেলাধুলা ও ক্রীড়া কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।
কয়রা উপজেলার ভ্যানচালক মোহাম্মদ আবু মুসা বলেন, “নুরুল আমিন বাবুল মানুষের সঙ্গে ভালোভাবে মিশেন। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেন। আমি তাঁকে ভালো মানুষ হিসেবে দেখি। নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলে তাঁকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা আছে।”
কয়রা সদর ইউনিয়নের সাবেক এক চেয়ারম্যানও নুরুল আমিন বাবুলের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। ওই সাবেক চেয়ারম্যানের ভাষ্য, বাবুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের বাসিন্দা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, “বাবুল ভাই এলাকার মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। মানুষের সমস্যার কথা শোনেন এবং নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। আমরা তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।”
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, নুরুল আমিন বাবুল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ও তিনি এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন মামলা ও হয়রানির মুখোমুখি হওয়ার কথাও তাঁর অনুসারীরা তুলে ধরেন।
নুরুল আমিন বাবুলের অনুসারীদের মতে, তাঁর রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের আয়োজনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজের সাংগঠনিক যোগাযোগ ধরে রেখেছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সমর্থকেরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে কয়রা সদর ইউনিয়নে তাঁর একটি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, দলীয় সিদ্ধান্তে সুযোগ পেলে তিনি ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন।
কয়রা উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কাছে বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং তরুণদের জন্য ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিএনপি নেতা নুরুল আমিন বাবুল বলেন, “কয়রা সদর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই আমাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মানুষের সুখ-দুঃখে তাদের সঙ্গে ছিলাম, তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শুনেছি। মানুষের এই ভালোবাসা ও প্রত্যাশা আমাকে আরও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করছে।
আমি সুযোগ পেলে কয়রা সদর ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিশেষ করে সুপেয় পানি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও কর্মসংস্থানসহ স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। জনগণের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য। দলীয় সিদ্ধান্ত ও জনগণের সমর্থন পেলে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমি মনে করি, জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হলো মানুষের কথা শোনা এবং তাদের প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকা।”
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২০:৫১:৩০ ২ বার পঠিত | ● কয়রা ● নেতা ● বাবুল ● বিএনপি