ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: শরতের শুভ্রতার প্রতীক কাশফুল। এ সময় নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ফুটে ওঠে সাদা কাশফুল। ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতি কাশফুলের সৌন্দর্যে সেজে ওঠে। মানসিক প্রশান্তি ও বিনোদনের আশায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে কাশবনে ছুটে আসেন। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে কাশবন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সাদা কাশফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এম কেরামত আলী হল প্রাঙ্গণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে, কদমতলা কলেজ এলাকা, লেবুখালী আবাসন, উত্তর শ্রীরামপুর এবং পায়রা ও লোহালিয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে কাশবন দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কাশফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন তাঁরা। কৃত্রিম জীবনের কোলাহল ছেড়ে মুক্ত আনন্দ পেতে মানুষ কাশবনে আসছেন। বিশেষ করে শেষ বিকেলে কাশবনের সৌন্দর্য বেড়ে যায়। এ কারণে বেশিরভাগ দর্শনার্থী বিকেলে আসেন। প্রকৃতিপ্রেমীরা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে আসেন। কেউ আসেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী কাশবনে সেলফি তোলেন, নাটক, ভিডিও ও কনটেন্ট তৈরি করেন কিংবা নিজের ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন। মৃদু বাতাসে কাশফুলের দোল দর্শনার্থীদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
কাশের ব্যবহার শুধু পানবরজ, ঘরের চালা বা সবজিবাগানের বেড়া তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়; কাশফুলে রয়েছে আয়ুর্বেদীয় গুণও। মাটিক্ষয় রোধে কাশ চাষ করা হয়। এ ছাড়া কাশ থেকে বিশেষ ধরনের কাগজের মণ্ড তৈরি হয়। সব মিলিয়ে কাশফুল শুধু শরতের মুগ্ধতার প্রতীক নয়, কাশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের জীবনযাত্রাও। সাদা মেঘের মেলায় কাশফুলের সৌন্দর্য এক কথায় প্রকাশ করা কঠিন।
কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা বসে। কাশফুল বা কাশবন পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের কাশবন দেখতে আসা ইয়ান্নার মা বলেন, “মানসিক শান্তি আর কাশফুলের শুভ্রতা উপভোগ করতে ছোট মেয়েকে নিয়ে এখানে ছুটে এসেছি। প্রতিবছরই কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এ সময় বিভিন্ন স্থানে যাওয়া হয়।”
পবিপ্রবির শিক্ষার্থী রহমাতুল্লাহ কাওসার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এম কেরামত আলী হলের সামনের কাশবনে সাদা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে পর্যটকেরা আসেন। তবে দুঃখের বিষয়, অনেক পর্যটক ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যান, এতে সৌন্দর্য নষ্ট হয়।
কদমতলা কলেজ মাঠের কাশবনে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী তামিম, সজল, বৈশাখী ও তামান্না বলেন, “এমন সৌন্দর্য ও মনোরম পরিবেশ দেখে খুব ভালো লাগে। আগে বইপুস্তকে পড়েছি, এবার চোখে দেখে বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো। এমন অপরূপ সৌন্দর্যের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুললাম।”
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:১৩:০৬ ৬ বার পঠিত | ● কাশবন ● দুমকি