ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
গাজীপুর: ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক প্রবাসীর তিনটি দোকানঘর দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শওকত ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসী মাসুম পারভেজের মা রাহেলা বেগম গাজীপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলার নম্বর সি.আর. ২১৮/২৬। ঘটনাটি আশুলিয়া থানার জিরানীর মুসলিমটেক এলাকায়।
গত রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি দোকানের মধ্যে নানা ভাই টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক দোকানটি খোলা রয়েছে। বাকি দুটি দোকান তালাবদ্ধ। দোকানদার সোহেল রানা জানান, তিনি দোকানের ভাড়া শওকতকে দেন।
দোকানগুলোর পেছনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। ইট, বালি ও সিমেন্ট নষ্ট হচ্ছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ক্রয়সূত্রে মালিক হওয়ার পর প্রবাসী মাসুম পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে তিনটি দোকান থেকে ভাড়া পেয়ে আসছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা দোকানগুলোর পেছনে নতুন স্থাপনা নির্মাণের জন্য ইট, বালি ও সিমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে স্থানীয় শওকত, নাহিদ মোল্লা ও আলমগীর বেআইনিভাবে সেখানে প্রবেশ করে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা কাজ বন্ধ করে দেন।
প্রবাসীর মা রাহেলা বেগম প্রতিবাদ করলে তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁরা হুমকি দেন। পাশাপাশি নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে সিমেন্ট ও বালি নষ্ট করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং বাদীর ভাড়াটিয়া দোকানদারদের হুমকি দিয়ে তিনটি দোকানঘরে তালা লাগিয়ে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাহেলা বেগম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে গাজীপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কাশিমপুর থানাকে নির্দেশ দেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তদন্ত কর্মকর্তা কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাশেদুল হক সরকার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মো. শওকত সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়, বাদীর ছেলে মাসুম পারভেজের ৮.২৫ শতাংশ জমির মধ্যে ৩ শতাংশ জমিতে থাকা তিনটি দোকান তিনি দখল করে নেন। প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি প্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা ভাড়া হিসেবে আদায় করছেন। তবে শওকত তাঁর দাবিকৃত ও দখল করা জমির মালিকানার কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২৮ সেপ্টেম্বর আসামিরা নিম্ন আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়ার পর আসামিরা বাদী রাহেলা বেগমের সঙ্গে বেপরোয়া আচরণ করছেন এবং মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাহেলা বেগম বলেন, “আসামিরা জামিন পেয়ে অনবরত আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখনও দখলকৃত দোকান বুঝে পাইনি। কাজের জন্য আনা নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই সম্পত্তি কিনেছি। এখন ঋণের কিস্তি দিতে কষ্ট হচ্ছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শওকতের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার জন্য বলেন। এ ছাড়া তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৪:৪৯ ১০ বার পঠিত | ● জিরানী মুসলিমটেক ● প্রবাসীর দোকান দখল ● রাহেলা বেগম মামলা ● শওকত চাঁদা দাবি