ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পিরোজপুর: পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ গোপনে গার্ড অব অনার দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। নিজ এলাকায় তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেন স্থানীয় কয়েকজন। শনিবার দুপুর ১২টায় মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে গার্ড অব অনার প্রদান ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করেন স্থানীয় লোকজন। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
মানিক পশারীর বয়স ছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ছিলেন।
মানিক পশারীর পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। গত দুই মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আনা হলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন।
মানিক পশারী গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। সে সময়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পর তৎকালীন সংসদ সদস্য মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করান। তাঁরা তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মেনে নেননি। পরে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে তাঁকে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
মানিক পশারীর পরিবার জানায়, সকাল ১০টায় তাঁর মৃত্যু হলেও দুপুর ১২টায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গেলে গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা বলে তাঁদের বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হয়। পরিবারের ভাষ্য, তিনি মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ একটি অ্যাম্বুলেন্সে বরফ ছাড়া চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা মরদেহ রাখতে হয়। পরে গোপনে কোনোমতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মরদেহ দাফনের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো দায়িত্ব নেননি বলেও অভিযোগ করে পরিবার। এ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক বলেন, তাঁরা কেন দাফনে বাধা দেবেন? পরিবার যেখানে ইচ্ছা, সেখানে তাঁকে দাফন করতে পারে। তবে স্থানীয় কিছু সাঈদীভক্ত তাঁর দাফনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে শুনে সংগঠনের লোকজনকে দিয়ে তাঁদের বোঝানোর ও সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না। পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর মরদেহ দাফনে জামায়াতের কোনো বাধা নেই, তবে সাধারণ মানুষ এর বিরোধিতা করছেন। তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে, যাতে তাঁরা রাস্তা থেকে সরে যান।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাত ১টা ৩০ মিনিটে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি বলেন, মানিক পশারীর দাফন শেষ হয়েছে। সেখানে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল না। কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি এবং সেখানে কোনো লোকজনও পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে এবং যথাযথভাবে তাঁর দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৯:৪৩ ৭ বার পঠিত | ● গার্ড অব অনার ● দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী মামলা ● পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধার দাফন ● মানিক পশারী