ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঢাকা: দোহারে পদ্মা নদীর পাড় এলাকায় দখলের অভিযোগ উঠেছে।প্রায় চল্লিশ বছরেরে বেশী সময় ধরে বসবাসরত কাদের ফকিরের চার ছেলে হবি ফকির, দবি ফকির, খবির ফকির,জলিল ফকির অভিযোগ করেন, তার দাদা আদম ফকিরের আমল থেকে ক্রয়সুত্রে আমরা এই জমিতে ভোগদখলে আছি।
গত কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের বসবাসরত প্রায় ৫ একর আবাদি জমি জবরদখল করেন পশ্চিম মধুরচর গ্রামের মৃত. রকমান শেখের দুই ছেলে ইলিয়াছ শেখ ও রব্বানী শেখ, একই গ্রামের মৃত. হাসেম শেখের ছেলে গনি শেখ, দোহারপুরি এলাকার মৃত. পবন মোল্লার মেয়ে ঝুনু আক্তার পক্ষে একই গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে সিরু শিকদার গং।
ভুক্তভোগী কাদের ফকির গংরা জানান, উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মধুরচর গ্রামের গাংপাড়/ বটতলা প্রাইমারী স্কুলের সাথে প্রায় ৫ একর জমির বেশীর ভাগ জমিতে জবরদখল করে ঘর নির্মান করেছেন। বর্তমানে তারা আতংকের মধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। বিষয়টি দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে জানানোর পরও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
এছাড়াও নারিশা, নারিশা জোয়ার,মেঘুলা, পশ্চিম মধুরচর বটতলা নামক স্থানে প্রভাবশালীরা জবর-দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মান করে গড়ে তুলেছেন শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।এছাড়াও উক্তস্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ ড্রেজিং ব্যবসা।এরসাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে টং দোকান, আবাসন, মসজিদ, মন্দির, বিনোদনকেন্দ্র।এভাবে চলতে থাকলে পদ্মানদী তীরবর্তী জমি দখলের হিড়িক পড়ে যাবে।
এ বিষয়ে পশ্চিম মধুরচরের অভিযুক্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন জবরদখলের বিষয়ে দোহার বিএনপির অনেক নেতৃবৃন্দই জড়িত আছেন।
ঢাকা-১ আসন(দোহার ও নবাবগঞ্জ) সাংসদ ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক চরাঞ্চলের মানুষের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানের পর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন,চরাঞ্চল এলাকার উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে চান এবং মাদক, বাল্যবিবাহ, জবর-দখল,অবৈধ বালু উত্তোলন ও লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
তিনি পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন যে মাদক, বাল্যবিবাহ, জবর-দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং লাইসেন্সবিহীন কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং কোন মব জাতীয় অপরাধে জড়ালে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে মধুরচর/কাজিরচর এলাকা নিবাসী ও উপজেলা মৎস্য দলের সাধারন- সম্পাদক মো.নুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বলেন, দোহারের ভৌগলিক অবস্থানে ৩৬ কিলোমিটার পুরোটাই পদ্মা নদী।সেই নদীর পাড় ঘেঁষেই কয়েক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাদি জমি এবং পরিবারিক বসতি গড়ে উঠেছে। এসকল সম্পত্তি জবর-দখলের
ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদী দখলের প্রবণতা ও অবৈধ ড্রেজিং ক্রমেই বেড়েই চলছে।
দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি নওশীনা আরিফ জানান, বিআইডব্লিউটিআইএর নিয়ম অনুযায়ী নদীতীর থেকে ১৫০ মিটারের মধ্যে কেউ কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না কেউ। এরপরও আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। মধুরচরের ব্যপারে কেউ কোন অভিযোগ জানায় নি।মধুরচরের ১৪ আনা সম্পত্তি সরকারের খাস খতিয়ানের। জবরদখল কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৭:০৪ ৪ বার পঠিত | ● দোহার ● পদ্মার ● পাড়