ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
কুষ্টিয়া: ভেড়ামারা উপজেলায় সরকারি অর্থে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে ভবনটি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে একদিকে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা ভবনটির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে অবহেলা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি নিয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভেড়ামারা উত্তর রেলগেট এলাকায় দৃষ্টিনন্দন একটি ভবন দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির নাম ভেড়ামারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স। বাইরে থেকে ভবনটি দেখতে আকর্ষণীয় হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও ব্যবহার না থাকায় এর যথাযথ উপযোগিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ভবনের ভেতরে রয়েছে বেশ কয়েকটি কক্ষ। পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অব্যবহৃত কক্ষগুলো ভাড়া দিয়ে আয় করারও সুযোগ রয়েছে। ভবনের ছাদ থেকে আশপাশের খোলামেলা পরিবেশও উপভোগ করা যায়।
কিন্তু জমি নিয়ে জটিলতার কারণে সম্ভাবনাময় এই ভবনটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি পড়ে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু দাউদ বলেন, রেলওয়ের জমির ওপর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়েছে। জমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিনেও এটি মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। জমিটি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের নামে হস্তান্তর করা হলে আমরা ভবনটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারতাম। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় দিন দিন ভবনটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও মনে করেন, জমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে ভবনটি মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহারের উপযোগী করা হলে এটি তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও উপকারে আসতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স শুধু একটি ভবন নয়; এটি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, স্মৃতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। অথচ সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে এটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। জমির জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবনটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।
তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকবে কেন? জমির মালিকানা ও হস্তান্তরসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কোথায়?
ভেড়ামারাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে জমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করবে। একই সঙ্গে ভবনটির প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১:১৫:৩৮ ৪ বার পঠিত | ● ভেড়ামারা ● মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স