ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: মাত্র ১৮ বছর বয়সী মো. আশরাফুল। সংসারে অভাবের কারণে বেশি দূর পড়াশোনা করা হয়নি তাঁর। তাই অল্প বয়সেই জীবিকার সংগ্রামে নামতে হয়। স্বপ্ন ছিল নিজের উপার্জনে বাবার অভাবের সংসারে হাল ধরবেন এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চিত। কয়েক মাস আগে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর ডান পা। দারিদ্র্যের কারণে ন্যূনতম চিকিৎসাটুকুও করাতে পারছে না পরিবার। ফলে পায়ের ক্ষতস্থানে পচন ধরেছে। অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে আশরাফুলের।
তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইচগেট এলাকার বেড়িবাঁধের বাসিন্দা মো. বশিরের ছেলে। অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে কোনোরকমে সংসার চালান দরিদ্র কৃষক বশির। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় পরিবার নিয়ে বেড়িবাঁধসংলগ্ন খাসজমিতে বসবাস করেন তিনি।
আশরাফুল জানান, কয়েক মাস আগে লালমোহন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় পৌরশহরের ডাকবাংলো পুলের পশ্চিম পাশে ভাঙা সড়কে মোটরসাইকেলটি ধীরগতিতে চলছিল। হঠাৎ পেছন থেকে দ্রুতগতির পাথরবোঝাই একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলচালক সড়কের পাশে ছিটকে পড়লেও আশরাফুল পড়ে যান ট্রাকের নিচে। ট্রাকের চাকা তাঁর ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। চালক তাঁকে মৃত ভেবেই ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান। ট্রাকটি হাসপাতাল রোডের জুলফিকার মিয়ার।
দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য ট্রাকের মালিকের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি বলে জানান আশরাফুল। স্থানীয়রা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে তাঁকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর ডান পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। এরপর পঙ্গু হাসপাতালেও নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরাও একই পরামর্শ দেন।
আশরাফুলের বাবা মো. বশির বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছেন। চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ কারণে টাকার অভাবে ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে হয়। পরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ছেলের ক্ষতিগ্রস্ত পায়ের পাতার অংশ কেটে ফেলেন। ওই চিকিৎসক বলেছিলেন, চিকিৎসা করালে বাকি অংশ ঠিক হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমি গরিব মানুষ, কোনো জমিজমা নেই। বেড়িবাঁধের পাশে খাসজমিতে থাকি। এখন ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। নিয়মিত ড্রেসিং করানোর সামর্থ্যও নেই। রাতে ব্যথায় ছেলে যখন চিৎকার করে, তখন নিজেরও অনেক কষ্ট হয়। চিকিৎসার জন্য আরও অন্তত পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তি এবং প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। ছেলের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৩৫০৪৯২০৪৩ (বিকাশ ব্যক্তিগত) নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, চিকিৎসা সহায়তার জন্য ওই পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করলে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আশরাফুলের পায়ের অংশ কেটে ফেলায় তিনি প্রতিবন্ধী ভাতাও পাবেন। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র ও ভাতা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৫:৪৩ ৩ বার পঠিত | ● আর্থিক সহযোগিতা ● আশরাফুলের চিকিৎসায় সহায়তা ● পায়ে পচন ● লালমোহন ভোলা