ঢাকা বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিশৃঙ্খল বাংলাদেশে পাহাড়সম ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে। ছোবল দিয়ে সাপ পালিয়ে যাবে, আপনাদের মরদেহ পড়ে থাকবে।’
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদের ভেতরেও বলেছি, এই বসন্তের কোকিল, যারা বসন্তকালে কুহু কুহু করতে এসেছে, বসন্তকাল পার হওয়ার পর তাদের আর দেখা পাবেন না। আপনাদের যখন গ্রীষ্মকাল কিংবা বর্ষাকাল আসবে, তখন এদের আর খুঁজে পাবেন না। আপনাদের ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাবধান করে দিচ্ছি, বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি তা করেন এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, তাহলে মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে। আর যদি মনে করেন, অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি—বাংলাদেশে আর তা হবে না। এই জনগণ আর কখনো ফ্যাসিবাদকে কবুল করে নেবে না, ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করবে না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংঘবদ্ধ জনবল রুখে দাঁড়িয়েছে, রুখে দাঁড়াবে এবং দিন দিন এর গতি বাড়বে। একটা জায়গায় গিয়ে এর পূর্ণ সমাধান হবে।’
তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অনেকটা কমেছে। তাঁর প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের জন্য তিনি যে প্রতিবাদ করেছিলেন, তার সুফল এখন মানুষ পাচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চাপানো হলো যে, তিনি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত দিয়েছেন। যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা এর প্রতিবাদ তখনই করেছি।’
তিনি বলেন, ‘সেদিনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। যদি তাঁদের কোনো অপরাধ না থাকে, তাহলে দুজনকে বরখাস্ত করা হলো কেন? তিনি ট্রলি নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেখানে এসে ট্রলির জন্য লটারির মতো টানাটানি করতে হয়। কেউ পান, কেউ পান না। একটি ট্রলি তিনজন যাত্রীর জন্য হওয়ার কথা।’
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি সংযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর উত্থাপিত দুর্বলতাও মেনে নেওয়া হয়েছে।
ব্যাগ কাটা ও লাগেজ চুরির বিষয়েও মেজর আখতারুজ্জামান কথা বলেছিলেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে, বডি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। যারা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করেন, তাঁদের সবার শরীরে এখন বডি ক্যামেরা আছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাওয়া যায়। ধন্যবাদ মেজর আখতারুজ্জামান। আপনার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে, কাজ দিচ্ছে। এর সুফল এখন যুগ যুগ ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হওয়া যাত্রীরা পাচ্ছেন। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘জেল তো বহু খেটেছি। অনেক প্রতিবাদও করেছি। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ফল পাইনি। আপনি পেয়ে গেছেন। আমরা আরও লম্বা সময় জেলে ছিলাম, কিন্তু ফল পাইনি। এক মাসের বিনিময়ে আপনাকে একটা আগের কণ্ঠকে খাঁচায় ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু খাঁচায় কত দিন বন্দি রাখবেন? রাখতে পারেননি, পারবেনও না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও লজ্জাজনক মামলা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এটাও আরেকটি লজ্জার বিষয়। ভিত্তিহীন এই মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন দেওয়া হলো না। চোখ বেঁধে উঠানো হলো, মাথায় হেলমেট পরানো হলো, বুকে সেফটি ভেস্ট পরানো হলো। সবকিছুর পরও সাহস হলো না এখান থেকে জামিন দেওয়ার। হাইকোর্ট পর্যন্ত যাওয়া হলো। আবার কাপুরুষের মতো চেম্বার জজে টেনে নেওয়া হলো। সবই লজ্জার, ঘাটে ঘাটে লজ্জা, মহালজ্জা। কিন্তু যাদের লজ্জা থাকার কথা, তাদের তো লজ্জা লাগে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যার গায়ে কাপড় নেই, তাকে দেখে সম্ভ্রমশীল মানুষ লজ্জা পায়। কিন্তু যার গায়ে কাপড় নেই, তার কোনো লজ্জা নেই। লজ্জা কবে আসবে? লজ্জা কি নির্বাসনে থাকবে? লজ্জা আসা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না যাবে, আমাদের লড়াই তত দিন চলবে। আমাদের প্রিয় সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। এটাই আমাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৭:৫২ ৯ বার পঠিত | ● ডা. শফিকুর রহমান ● বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ● মেজর আখতারুজ্জামান ● শাহজালাল বিমানবন্দর