ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » শ্বশুরকে অপহরন করে হত্যার পর লাশ গুম, জামাতা গ্রেফতার

শ্বশুরকে অপহরন করে হত্যার পর লাশ গুম, জামাতা গ্রেফতার


স্টাফ রিপোর্টার,( আগৈলঝাড়া )
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫


শ্বশুরকে অপহরন করে হত্যার পর লাশ গুম, জামাতা গ্রেফতার

বরিশাল: আগৈলঝাড়ায় শ্বশুরকে অপহরন করে হত্যার পর লাশ গুম করেছে মেয়ের জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈ। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিউটি হালদার বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর হত্যাকারী জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈকে গ্রেফতার করে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামনন্দের আঁক গ্রামের মৃত.মনিমোহন হালদারের ছেলে অখিল হালদার মন্টু স্থানীয় বাজার থেকে দুধ ক্রয় করে প্রতিদিনের ন্যায় ২০ আগষ্ট দুপুরে দুধ বিক্রি করতে গৈলা বাজারে যান। দুধ বিক্রি করে বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে রাজিহার বাজারের ওয়াপদা সড়কে আসলে শ্বশুর মন্টুকে অপহরন করে নিয়ে যায় জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈ। সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরেরদিন ২১ আগষ্ট নিহতের স্ত্রী আগৈলঝাড়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন।

শ্বশুর অখিল হালদার মন্টুকে অপহরন করে বাশাইল-বাটরা সড়কের অহুতি বাটরা গ্রামের নির্জনস্থানে নিয়ে গলা টিপে শ্বশুরকে হত্যা করে তার লাশ খালের কচুরিপানার নিচে গুম করে জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈ। শ্বশুরের ভ্যান ও ৫টি দুধের কলস নিয়ে জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈ মাদারীপুর সদরে গিয়ে রেখে আসেন। মন্টুর পরিবার জামাইকে ওই দিন রাতে শ্বশুর নিখোজের বিষয় জানিয়ে বাড়িতে আসতে বলেন। সে ওই বাড়িতে পরের দিন আসে।

এসময় তার কথাবার্তায় অসংলগ্ন হলে শ্বশুর পরিবার ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিকতর তদন্ত শুরু করেন। এসময় তারা মন্টু নিখোজের পূর্বে তার ফোন ও মেয়ে জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈর ফোনের লোকেশন একই স্থানে দেখতে পায় এবং ডাসার থানার পাথুরিয়ারপাড় একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে নিহত অখিল হালদারের দুধের কলসসহ ভ্যান চালিয়ে মাদারীপুরের দিকে যেতে দেখেন জামাইকে।

পরে পুলিশ জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে নিজেই একা হত্যার কথা স্বীকার করেন। সে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই গ্রামের কানাই বাড়ৈর ছেলে। তার স্বীকারক্তিমতে ২২ আগষ্ট রাতেই জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈকে নিয়ে উপজেলা রাজিহার ইউনিয়নের আহুতি বাটরা গ্রামের সড়কের পাশে সরকার বাড়ীর পূর্বপাশে খালের কচুরিপানা নিচ থেকে শ্বশুর মন্টুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এসময় পুলিশ মাদারীপুরে থেকে জামাইর রেখে আসা ভ্যান উদ্ধার করেছে। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিউটি হালদার বাদী হয়ে ২২ আগষ্ট রাতে আগৈলঝাড়া থানায় অপহরন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। গতকাল শনিবার সকালে গ্রেফতারকৃত জামাই কৃষ্ণ বাড়ৈকে বরিশাল জেল হাজতে ও লাশ পোষ্টমর্ডেমের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

নিহত অখিল হালদার মন্টুর অসহায় পরিবারে বিধবা স্ত্রী, মেয়ে আখি (১৮), পাখি (১৬), মিতু(১২), সেতু (৮) ও একমাত্র ছেলে অচিন্ত হালদার (৪) রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী বিউটি হালদার বলেন, আমার স্বামীর অমতে প্রায় দুই বছর পূর্বে মেয়ে আখি হালদার কৃষ্ণ বাড়ৈকে বিয়ে করায় প্রথম থেকেই অশান্তি শুরু হয়। বিভিন্ন কারনে জামাই আমাদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল।
এব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো.অলিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অখিল হালদার মন্টু নিখোজের সাধারন ডায়েরীর সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জামাইকে সন্দেহ হয়। তাকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে লোমহর্ষক হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে নিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৮:৫৯   ২১৮ বার পঠিত  |         







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ